ঢাকা নিউজ

কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইসরাইলি মেয়র, দোষ দিলেন নেতানিয়াহুকে



কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইসরাইলি মেয়র, দোষ দিলেন নেতানিয়াহুকে
ছবি : সংগৃহীত

লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর অবিরাম রকেট হামলায় উত্তর ইসরায়েলের সীমান্ত সংলগ্ন শহরগুলোতে এখন এক চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। নাগরিকদের প্রাণ বাঁচাতে না পারার আকুলতায় জনসমক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কিরিয়াত শমোনা শহরের মেয়র আভিচাই স্টার্ন। গত বুধবার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে বর্তমান পরিস্থিতিকে ইসরায়েলি সরকারের জন্য একটি ‘বড় পরাজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় উত্তর ইসরায়েলের জনজীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মেয়র স্টার্ন জানান, তার শহরের ২৪ হাজার বাসিন্দার মধ্যে এখন মাত্র ১০ হাজার জন অবশিষ্ট আছেন। পর্যাপ্ত বোম শেল্টার বা নিরাপত্তা না থাকায় শহরটি দ্রুত জনশূন্য হয়ে পড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বাসিন্দাদের এলাকা না ছাড়ার অনুরোধ করলেও নাগরিকদের জানমালের নুন্যতম নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে তার প্রশাসন।

ক্ষোভে ফেটে পড়া স্থানীয় কাউন্সিল প্রধানরা জানিয়েছেন, সাইরেন বাজার পর নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য যেখানে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়, সেখানে সুরক্ষা ছাড়া থাকা অসম্ভব। ‘নর্দান শিল্ড’ প্রকল্পের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় হাজার হাজার মানুষ এখন সরাসরি হিজবুল্লাহর রকেটের মুখে। মার্গালিওট মোশ্যাভের মেয়র ইতান দাভিদি আক্ষেপ করে বলেন, রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা এখন লেবাননের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের এই বিদ্রোহ ও ক্ষোভ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান বা লেবানন যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রগতির দাবির আড়ালে দেশটির নিজস্ব সীমান্ত শহরগুলো এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আইডিএফ পাল্টা হামলার দাবি করলেও বাস্তুচ্যুত ও আতঙ্কিত বাসিন্দারা মনে করছেন, তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছেন এবং রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইসরাইলি মেয়র, দোষ দিলেন নেতানিয়াহুকে

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর অবিরাম রকেট হামলায় উত্তর ইসরায়েলের সীমান্ত সংলগ্ন শহরগুলোতে এখন এক চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। নাগরিকদের প্রাণ বাঁচাতে না পারার আকুলতায় জনসমক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কিরিয়াত শমোনা শহরের মেয়র আভিচাই স্টার্ন। গত বুধবার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে বর্তমান পরিস্থিতিকে ইসরায়েলি সরকারের জন্য একটি ‘বড় পরাজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় উত্তর ইসরায়েলের জনজীবন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মেয়র স্টার্ন জানান, তার শহরের ২৪ হাজার বাসিন্দার মধ্যে এখন মাত্র ১০ হাজার জন অবশিষ্ট আছেন। পর্যাপ্ত বোম শেল্টার বা নিরাপত্তা না থাকায় শহরটি দ্রুত জনশূন্য হয়ে পড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বাসিন্দাদের এলাকা না ছাড়ার অনুরোধ করলেও নাগরিকদের জানমালের নুন্যতম নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে তার প্রশাসন।

ক্ষোভে ফেটে পড়া স্থানীয় কাউন্সিল প্রধানরা জানিয়েছেন, সাইরেন বাজার পর নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য যেখানে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়, সেখানে সুরক্ষা ছাড়া থাকা অসম্ভব। ‘নর্দান শিল্ড’ প্রকল্পের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় হাজার হাজার মানুষ এখন সরাসরি হিজবুল্লাহর রকেটের মুখে। মার্গালিওট মোশ্যাভের মেয়র ইতান দাভিদি আক্ষেপ করে বলেন, রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা এখন লেবাননের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের এই বিদ্রোহ ও ক্ষোভ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান বা লেবানন যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রগতির দাবির আড়ালে দেশটির নিজস্ব সীমান্ত শহরগুলো এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আইডিএফ পাল্টা হামলার দাবি করলেও বাস্তুচ্যুত ও আতঙ্কিত বাসিন্দারা মনে করছেন, তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছেন এবং রাষ্ট্র তাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ