ঢাকা নিউজ

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে রাশিয়ার প্রস্তাব পাশ: ২০২২ সালের পর প্রথম সাফল্য



জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে রাশিয়ার প্রস্তাব পাশ: ২০২২ সালের পর প্রথম সাফল্য
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে রাশিয়ার উত্থাপিত একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাশিয়ার পুনঃপ্রবেশের প্রচেষ্টায় এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শুক্রবার ৪৭ সদস্যের এই পরিষদে রাশিয়ার খসড়া প্রস্তাবটি ২৬টি দেশের সমর্থনে পাশ হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রস্তাবটির বিপক্ষে কোনো দেশ ভোট দেয়নি, তবে পশ্চিমা ২১টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রাশিয়ার এই প্রস্তাবটি ছিল মূলত ১৯৬৬ সালে গৃহীত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির ৬০তম বার্ষিকী উদযাপনের একটি সাধারণ আহ্বান। প্রস্তাবনাটি এতটাই নিরপেক্ষ ছিল যে, সদস্য দেশগুলোর পক্ষে এর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। হিউম্যান রাইটস হাউস ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষক ডেভ এলসেরোড মনে করেন, এটি সংস্থাটিতে রাশিয়ার পুনরায় সক্রিয় হওয়ার একটি সুপরিকল্পিত কৌশলগত প্রচেষ্টা।

ভোটের আগে রাশিয়ার প্রতিনিধি সকল দেশকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবাধিকার যেন কেবল রাজনৈতিক স্লোগান না হয়। তবে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা রাশিয়ার এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার রাষ্ট্রদূত এলেনর স্যান্ডার্স বলেন, রাশিয়া যখন নিজেরাই এসব চুক্তির নীতি ও মূল্যবোধ লঙ্ঘন করছে, তখন এই প্রস্তাব আনা সমীচীন নয়। অন্যদিকে সাইপ্রাসের রাষ্ট্রদূত অলিম্পিয়া নিওক্লিয়াস রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে এই উদ্যোগের নিন্দা জানান।

রাশিয়া জানিয়েছে, তাদের এই খসড়া প্রস্তাবের পক্ষে কয়েক ডজন সহ-প্রস্তাবক দেশ ছিল। অন্যদিকে চীনের প্রতিনিধি জাতিসংঘ পরিষদে ক্রমবর্ধমান ‘রাজনৈতিকীকরণ এবং দ্বৈত নীতি’র কঠোর সমালোচনা করেছেন। গত চার বছর ধরে মানবাধিকার পরিষদ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকার পর এই প্রস্তাব পাশ হওয়া রাশিয়ার জন্য একটি বড় বিজয় বলে মনে করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় মস্কোর আরও আগ্রাসী ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে রাশিয়ার প্রস্তাব পাশ: ২০২২ সালের পর প্রথম সাফল্য

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে রাশিয়ার উত্থাপিত একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাশিয়ার পুনঃপ্রবেশের প্রচেষ্টায় এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শুক্রবার ৪৭ সদস্যের এই পরিষদে রাশিয়ার খসড়া প্রস্তাবটি ২৬টি দেশের সমর্থনে পাশ হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রস্তাবটির বিপক্ষে কোনো দেশ ভোট দেয়নি, তবে পশ্চিমা ২১টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রাশিয়ার এই প্রস্তাবটি ছিল মূলত ১৯৬৬ সালে গৃহীত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির ৬০তম বার্ষিকী উদযাপনের একটি সাধারণ আহ্বান। প্রস্তাবনাটি এতটাই নিরপেক্ষ ছিল যে, সদস্য দেশগুলোর পক্ষে এর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। হিউম্যান রাইটস হাউস ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষক ডেভ এলসেরোড মনে করেন, এটি সংস্থাটিতে রাশিয়ার পুনরায় সক্রিয় হওয়ার একটি সুপরিকল্পিত কৌশলগত প্রচেষ্টা।

ভোটের আগে রাশিয়ার প্রতিনিধি সকল দেশকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবাধিকার যেন কেবল রাজনৈতিক স্লোগান না হয়। তবে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা রাশিয়ার এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার রাষ্ট্রদূত এলেনর স্যান্ডার্স বলেন, রাশিয়া যখন নিজেরাই এসব চুক্তির নীতি ও মূল্যবোধ লঙ্ঘন করছে, তখন এই প্রস্তাব আনা সমীচীন নয়। অন্যদিকে সাইপ্রাসের রাষ্ট্রদূত অলিম্পিয়া নিওক্লিয়াস রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে এই উদ্যোগের নিন্দা জানান।

রাশিয়া জানিয়েছে, তাদের এই খসড়া প্রস্তাবের পক্ষে কয়েক ডজন সহ-প্রস্তাবক দেশ ছিল। অন্যদিকে চীনের প্রতিনিধি জাতিসংঘ পরিষদে ক্রমবর্ধমান ‘রাজনৈতিকীকরণ এবং দ্বৈত নীতি’র কঠোর সমালোচনা করেছেন। গত চার বছর ধরে মানবাধিকার পরিষদ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকার পর এই প্রস্তাব পাশ হওয়া রাশিয়ার জন্য একটি বড় বিজয় বলে মনে করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় মস্কোর আরও আগ্রাসী ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ