ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির এক শিউরে ওঠার মতো চিত্র প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান। গত এক মাসে দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৪৪৩ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে ২১৭ জনই শিশু।
সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ মার্চ ছিল এই যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী দিন, যেখানে মাত্র এক দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ২৫২ জন মানুষ। রাজধানী তেহরানের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রায় ৩৭ শতাংশ হামলা চালানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
লন্ডন-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'এয়ারওয়ারস' জানিয়েছে, এই হামলায় কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক ভবন। এখন পর্যন্ত অন্তত ৬০টি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ৪৪টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও সরকারি হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
মানবিক এই বিপর্যয়ের মাঝে জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। একইসঙ্গে জ্বালানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর ৫০০-র বেশিবার হামলা চালানোয় দেশটির সাধারণ জনজীবন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে, যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। এর ফলে তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ডলারের বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশটি।
এদিকে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলার জবাবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি সংঘাতের জেরে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ববাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের অস্থিরতা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির এক শিউরে ওঠার মতো চিত্র প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান। গত এক মাসে দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৪৪৩ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে ২১৭ জনই শিশু।
সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ মার্চ ছিল এই যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী দিন, যেখানে মাত্র এক দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ২৫২ জন মানুষ। রাজধানী তেহরানের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রায় ৩৭ শতাংশ হামলা চালানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
লন্ডন-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'এয়ারওয়ারস' জানিয়েছে, এই হামলায় কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক ভবন। এখন পর্যন্ত অন্তত ৬০টি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ৪৪টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও সরকারি হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
মানবিক এই বিপর্যয়ের মাঝে জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। একইসঙ্গে জ্বালানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর ৫০০-র বেশিবার হামলা চালানোয় দেশটির সাধারণ জনজীবন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে, যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। এর ফলে তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ডলারের বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশটি।
এদিকে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলার জবাবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি সংঘাতের জেরে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ববাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের অস্থিরতা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন