ঢাকা নিউজ

অস্ত্রসংকটে পেন্টাগন: দ্রুত ফুরোচ্ছে আমেরিকার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার



অস্ত্রসংকটে পেন্টাগন: দ্রুত ফুরোচ্ছে আমেরিকার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার
ছবি : সংগৃহীত

চলমান ইরান যুদ্ধে অত্যাধুনিক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গত চার সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মার্কিন সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে মার্কিন গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসার উপক্রম হয়েছে, যাকে সামরিক পরিভাষায় ‘উইনচেস্টার’ বলা হয়। নৌযান ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বার্ষিক উৎপাদন অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় এবং প্রতিটি তৈরিতে প্রায় দুই বছর সময় লাগায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

প্রতিটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন ডলার এবং বর্তমানে এর বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং উৎপাদন বাড়ানোর পথ খুঁজতে পেন্টাগন ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক করেছে। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে দ্রুতই এই মজুত শূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন কংগ্রেসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, আমেরিকার শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’-এর মোট মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বেশ কিছু রাডার সিস্টেম ধ্বংস হওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে চরম অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে এবং এখন তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হলো শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার উৎপাদনকারী কারখানাগুলো। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও মিত্রশক্তির প্রতিরক্ষা বলয় এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


অস্ত্রসংকটে পেন্টাগন: দ্রুত ফুরোচ্ছে আমেরিকার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

চলমান ইরান যুদ্ধে অত্যাধুনিক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গত চার সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মার্কিন সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে মার্কিন গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসার উপক্রম হয়েছে, যাকে সামরিক পরিভাষায় ‘উইনচেস্টার’ বলা হয়। নৌযান ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বার্ষিক উৎপাদন অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় এবং প্রতিটি তৈরিতে প্রায় দুই বছর সময় লাগায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

প্রতিটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন ডলার এবং বর্তমানে এর বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং উৎপাদন বাড়ানোর পথ খুঁজতে পেন্টাগন ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক করেছে। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে দ্রুতই এই মজুত শূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন কংগ্রেসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, আমেরিকার শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’-এর মোট মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বেশ কিছু রাডার সিস্টেম ধ্বংস হওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে চরম অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে এবং এখন তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হলো শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার উৎপাদনকারী কারখানাগুলো। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও মিত্রশক্তির প্রতিরক্ষা বলয় এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ