ঢাকা নিউজ

এক মাসের যুদ্ধে বিধ্বস্ত ইরান: ৯৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত



এক মাসের যুদ্ধে বিধ্বস্ত ইরান: ৯৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মাসব্যাপী ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানে ৯৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ধূলিসাৎ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত এক যৌথ পরিসংখ্যানে এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর সাথে সাথে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অভাবনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে বিভিন্ন প্রদেশের ৭১ হাজার ৫৪৭টি বসতবাড়ি এবং ২০ হাজার ৭৭৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কেবল রাজধানী তেহরানেই ৩১ হাজার ৫৬২টি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন হামলার শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বসতবাড়ির পাশাপাশি দেশটির জরুরি সেবা ও শিক্ষা খাতও এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি। রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, ২৯৫টি স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা কেন্দ্র এবং প্রায় ৬০০টি স্কুল সরাসরি হামলার কবলে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

দেশটির উদ্ধার তৎপরতা ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত সরঞ্জামগুলোর ওপরও সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, অন্তত ৪৮টি জরুরি সেবার গাড়ি, ৪৬টি অ্যাম্বুলেন্স এবং রেড ক্রিসেন্টের তিনটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে, যা মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করছে।

চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলার ফলে ইরানের জনজীবন এখন চরম সংকটের মুখে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিশাল পরিমাণ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং একে যুদ্ধের একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


এক মাসের যুদ্ধে বিধ্বস্ত ইরান: ৯৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মাসব্যাপী ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানে ৯৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ধূলিসাৎ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত এক যৌথ পরিসংখ্যানে এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর সাথে সাথে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অভাবনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে বিভিন্ন প্রদেশের ৭১ হাজার ৫৪৭টি বসতবাড়ি এবং ২০ হাজার ৭৭৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কেবল রাজধানী তেহরানেই ৩১ হাজার ৫৬২টি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন হামলার শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বসতবাড়ির পাশাপাশি দেশটির জরুরি সেবা ও শিক্ষা খাতও এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি। রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, ২৯৫টি স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা কেন্দ্র এবং প্রায় ৬০০টি স্কুল সরাসরি হামলার কবলে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

দেশটির উদ্ধার তৎপরতা ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত সরঞ্জামগুলোর ওপরও সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, অন্তত ৪৮টি জরুরি সেবার গাড়ি, ৪৬টি অ্যাম্বুলেন্স এবং রেড ক্রিসেন্টের তিনটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে, যা মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করছে।

চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলার ফলে ইরানের জনজীবন এখন চরম সংকটের মুখে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিশাল পরিমাণ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং একে যুদ্ধের একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ