ঢাকা নিউজ

ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং ইসরায়েলে ‘ধন্যবাদ’ লেখা ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ



ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং ইসরায়েলে ‘ধন্যবাদ’ লেখা ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে দূরবর্তী সমুদ্রে অবস্থানরত একটি মার্কিন লজিস্টিকস সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। শনিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি নিশ্চিত করেছেন যে, ‘আগ্রাসী’ মার্কিন বাহিনীকে সহায়তাকারী ওই জাহাজটিকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এই অভিযানের বিষয়ে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ওমানের সার্বভৌমত্বের প্রতি তারা পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং হামলাটি ওমানি জলসীমার বাইরে পরিচালনা করা হয়েছে। ওমান উপকূলের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর তেহরানের ক্রমবর্ধমান চাপের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই দিনে ইসরায়েল অভিমুখে ৮৩তম ক্ষেপণাস্ত্রের বহর নিক্ষেপ করার সময় এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে নীল কালিতে ভারত, জার্মানি, স্পেন এবং পাকিস্তানের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘থ্যাঙ্ক ইউ পিপল অব ইন্ডিয়া’ সহ বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের নাম লেখা ছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও মুম্বাইয়ের কনস্যুলেট জেনারেল ভবন এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ছবি প্রদর্শন করেছে, যা মূলত ইরানি জনগণের প্রতি ওইসব দেশের সাধারণ মানুষের সহমর্মিতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, শনিবার সকালের এই অভিযানে ইসরায়েলের আশদোদ শহরের জ্বালানি তেলের ডিপো এবং মোদিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে। এছাড়াও ইসরায়েলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘মিলিটারি ইনফরমেশন এক্সচেঞ্জ সেন্টার’ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের গোয়েন্দা ও সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার একটি প্রয়াস।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন কেবল সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এতে যুক্ত হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক প্রচারণার নতুন মাত্রা। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং ইসরায়েলে ‘ধন্যবাদ’ লেখা ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে দূরবর্তী সমুদ্রে অবস্থানরত একটি মার্কিন লজিস্টিকস সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। শনিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি নিশ্চিত করেছেন যে, ‘আগ্রাসী’ মার্কিন বাহিনীকে সহায়তাকারী ওই জাহাজটিকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এই অভিযানের বিষয়ে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ওমানের সার্বভৌমত্বের প্রতি তারা পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং হামলাটি ওমানি জলসীমার বাইরে পরিচালনা করা হয়েছে। ওমান উপকূলের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর তেহরানের ক্রমবর্ধমান চাপের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই দিনে ইসরায়েল অভিমুখে ৮৩তম ক্ষেপণাস্ত্রের বহর নিক্ষেপ করার সময় এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে নীল কালিতে ভারত, জার্মানি, স্পেন এবং পাকিস্তানের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘থ্যাঙ্ক ইউ পিপল অব ইন্ডিয়া’ সহ বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের নাম লেখা ছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও মুম্বাইয়ের কনস্যুলেট জেনারেল ভবন এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ছবি প্রদর্শন করেছে, যা মূলত ইরানি জনগণের প্রতি ওইসব দেশের সাধারণ মানুষের সহমর্মিতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, শনিবার সকালের এই অভিযানে ইসরায়েলের আশদোদ শহরের জ্বালানি তেলের ডিপো এবং মোদিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে। এছাড়াও ইসরায়েলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘মিলিটারি ইনফরমেশন এক্সচেঞ্জ সেন্টার’ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের গোয়েন্দা ও সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার একটি প্রয়াস।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন কেবল সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এতে যুক্ত হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক প্রচারণার নতুন মাত্রা। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ