ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি নারী ও শিশুসহ কয়েক হাজার বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্যমতে, গত ৩০ দিনে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩ হাজার ৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে ১ হাজার ৪৬৪ জনই সাধারণ নাগরিক এবং নিহতদের তালিকায় ২৪০ জন নারী ও ২১৭ জন শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ৪ মার্চ মার্কিন সাবমেরিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজের ১০৪ জন নিহতের ঘটনা এই পরিসংখ্যানের অন্তর্ভুক্ত কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বেসামরিক নিহতের এই সংখ্যা ১৫০০ ছাড়িয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে ১২ হাজারেরও বেশি বোমা বর্ষণ করেছে, যার বড় একটি অংশ আঘাত হেনেছে রাজধানী তেহরানে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা ইরানজুড়ে প্রায় ৯ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে পুলিশ স্টেশন, বাসিজ মিলিশিয়া ভবন এবং আইআরজিসি সদস্যদের বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা থাকলেও, সেগুলোর অধিকাংশই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের তাণ্ডবে দেশজুড়ে ৯৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭১ হাজার ৫৪৭টি বসতবাড়ি এবং ২০ হাজার ৭৭৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তেহরান, যেখানে ৩১ হাজারেরও বেশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২৯৫টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও হামলার শিকার হয়েছে। এমনকি রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি যানবাহনগুলোও এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি।
যুদ্ধের ভয়াবহতার পাশাপাশি ইরান এখন এক চরম ডিজিটাল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত চার সপ্তাহ ধরে দেশটি কার্যত ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। শুধুমাত্র সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। একদিকে আকাশপথে ক্রমাগত বোমা বর্ষণ এবং অন্যদিকে বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা— সব মিলিয়ে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে ইরান।

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ হামলায় দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি নারী ও শিশুসহ কয়েক হাজার বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্যমতে, গত ৩০ দিনে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩ হাজার ৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে ১ হাজার ৪৬৪ জনই সাধারণ নাগরিক এবং নিহতদের তালিকায় ২৪০ জন নারী ও ২১৭ জন শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ৪ মার্চ মার্কিন সাবমেরিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজের ১০৪ জন নিহতের ঘটনা এই পরিসংখ্যানের অন্তর্ভুক্ত কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বেসামরিক নিহতের এই সংখ্যা ১৫০০ ছাড়িয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে ১২ হাজারেরও বেশি বোমা বর্ষণ করেছে, যার বড় একটি অংশ আঘাত হেনেছে রাজধানী তেহরানে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা ইরানজুড়ে প্রায় ৯ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে পুলিশ স্টেশন, বাসিজ মিলিশিয়া ভবন এবং আইআরজিসি সদস্যদের বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা থাকলেও, সেগুলোর অধিকাংশই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের তাণ্ডবে দেশজুড়ে ৯৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭১ হাজার ৫৪৭টি বসতবাড়ি এবং ২০ হাজার ৭৭৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তেহরান, যেখানে ৩১ হাজারেরও বেশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২৯৫টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও হামলার শিকার হয়েছে। এমনকি রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি যানবাহনগুলোও এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি।
যুদ্ধের ভয়াবহতার পাশাপাশি ইরান এখন এক চরম ডিজিটাল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত চার সপ্তাহ ধরে দেশটি কার্যত ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। শুধুমাত্র সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। একদিকে আকাশপথে ক্রমাগত বোমা বর্ষণ এবং অন্যদিকে বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা— সব মিলিয়ে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে ইরান।

আপনার মতামত লিখুন