ঢাকা নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার আল্টিমেটাম দিল বিপ্লবী গার্ড



মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার আল্টিমেটাম দিল বিপ্লবী গার্ড
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। রোববার (২৯ মার্চ) এক বিশেষ বিবৃতিতে বাহিনীটি জানিয়েছে, তেহরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ইরানের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার পর এখন পাল্টা আঘাত হানার সময় এসেছে। সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাসগুলো থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে অন্তত এক কিলোমিটার নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারে অবস্থিত টেক্সাস এ অ্যান্ড এম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নামী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ইরানি হামলার সরাসরি হুমকির মুখে রয়েছে।

বিপ্লবী গার্ড তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এই আগ্রাসন তাদের জন্য রেড লাইন অতিক্রম করার শামিল। তাই এখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রগুলো আইআরজিসি-র জন্য বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এই পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য একটি শেষ সুযোগও দেওয়া হয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, যদি আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা প্রকাশ না করে, তবে হামলার পরিধি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা আরও অনেক স্থাপনা এর আওতায় আসবে।

বর্তমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, তবে তাদের মিত্রদের অবশ্যই ইরানের গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে হবে। ৩০ মার্চের সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে পুরো অঞ্চলের শিক্ষাঙ্গনগুলো এখন যুদ্ধের এক নতুন ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার শঙ্কায় কাঁপছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আল্টিমেটাম না মানলে শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রগুলো বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার আল্টিমেটাম দিল বিপ্লবী গার্ড

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। রোববার (২৯ মার্চ) এক বিশেষ বিবৃতিতে বাহিনীটি জানিয়েছে, তেহরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ইরানের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার পর এখন পাল্টা আঘাত হানার সময় এসেছে। সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাসগুলো থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে অন্তত এক কিলোমিটার নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারে অবস্থিত টেক্সাস এ অ্যান্ড এম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নামী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ইরানি হামলার সরাসরি হুমকির মুখে রয়েছে।

বিপ্লবী গার্ড তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এই আগ্রাসন তাদের জন্য রেড লাইন অতিক্রম করার শামিল। তাই এখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রগুলো আইআরজিসি-র জন্য বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এই পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য একটি শেষ সুযোগও দেওয়া হয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, যদি আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা প্রকাশ না করে, তবে হামলার পরিধি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা আরও অনেক স্থাপনা এর আওতায় আসবে।

বর্তমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, তবে তাদের মিত্রদের অবশ্যই ইরানের গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে হবে। ৩০ মার্চের সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে পুরো অঞ্চলের শিক্ষাঙ্গনগুলো এখন যুদ্ধের এক নতুন ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার শঙ্কায় কাঁপছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আল্টিমেটাম না মানলে শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রগুলো বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হতে পারে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ