ঢাকা নিউজ

ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান: ট্রাম্পের ধোঁয়াশা ও গালিবাফের হুঁশিয়ারি



ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান: ট্রাম্পের ধোঁয়াশা ও গালিবাফের হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। রোববার (২৯ মার্চ) ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহের জন্য একটি স্থল অভিযানের (Ground Attack) মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই খবর প্রকাশের পরপরই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন স্থল সেনাদের জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন মুখে আলোচনার কথা বললেও গোপনে হামলার ছক কষছে।

তবে এই অভিযানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না; তবে পাঠালেও আপনাদের জানাতাম না।” অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, স্থল সেনা ছাড়াই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্র। তবে যেকোনো পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং প্রেসিডেন্টের সামনে সব বিকল্প খোলা রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে, ৩,৫০০ সৈন্য ও মেরিন সেনাসহ রণতরী ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ ইতিমধেই ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক আলোচনার মাঝপথেই ইরানের স্থাপনায় মার্কিন বোমাবর্ষণের ঘটনায় তেহরান এখন ওয়াশিংটনের কোনো প্রস্তাবেই আস্থা রাখতে পারছে না। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে চলে আসা আদর্শিক বিরোধ এখন সরাসরি সম্মুখ সমরের দোরগোড়ায়। একদিকে মার্কিন রণতরীর অবস্থান, অন্যদিকে ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা। ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই সংঘাত কতদূর গড়াবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬


ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান: ট্রাম্পের ধোঁয়াশা ও গালিবাফের হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। রোববার (২৯ মার্চ) ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহের জন্য একটি স্থল অভিযানের (Ground Attack) মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই খবর প্রকাশের পরপরই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন স্থল সেনাদের জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন মুখে আলোচনার কথা বললেও গোপনে হামলার ছক কষছে।

তবে এই অভিযানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না; তবে পাঠালেও আপনাদের জানাতাম না।” অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, স্থল সেনা ছাড়াই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্র। তবে যেকোনো পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং প্রেসিডেন্টের সামনে সব বিকল্প খোলা রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে, ৩,৫০০ সৈন্য ও মেরিন সেনাসহ রণতরী ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ ইতিমধেই ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক আলোচনার মাঝপথেই ইরানের স্থাপনায় মার্কিন বোমাবর্ষণের ঘটনায় তেহরান এখন ওয়াশিংটনের কোনো প্রস্তাবেই আস্থা রাখতে পারছে না। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে চলে আসা আদর্শিক বিরোধ এখন সরাসরি সম্মুখ সমরের দোরগোড়ায়। একদিকে মার্কিন রণতরীর অবস্থান, অন্যদিকে ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা। ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই সংঘাত কতদূর গড়াবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ