ঢাকা নিউজ

ইরান যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজতে পাকিস্তানে আলোচনায় বসছে সৌদি-তুরস্ক ও মিসর



ইরান যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজতে পাকিস্তানে আলোচনায় বসছে সৌদি-তুরস্ক ও মিসর
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থল অভিযানের আশঙ্কার মাঝেই এক বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বার্তা সংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ বন্ধের একটি কার্যকর পথ খুঁজে বের করা। মূলত যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হতে চললেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরিবর্তে আরও জটিল রূপ নেওয়ায় এই তিন আঞ্চলিক শক্তিধর দেশ একযোগে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

কূটনৈতিক এই তৎপরতার ঠিক আগ মুহূর্তে গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে বিস্তারিত কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলো যখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও সাড়ে তিন হাজার মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে এবং ইরানে সম্ভাব্য স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে যুদ্ধ এখন এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ। গতকাল থেকে হুতিরা সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় এখন লোহিত সাগরবাব এল-মানদেব প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাণিজ্যের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। উল্লেখ্য যে, এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ১২ শতাংশ সরবরাহ হয়। হুতিরা যদি এই জলপথ বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ইসলামাবাদের এই বৈঠকের ফলাফলই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্য কি শান্তির পথে ফিরবে, নাকি এক অনিয়ন্ত্রিত মহাযুদ্ধের কবলে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬


ইরান যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজতে পাকিস্তানে আলোচনায় বসছে সৌদি-তুরস্ক ও মিসর

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থল অভিযানের আশঙ্কার মাঝেই এক বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বার্তা সংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ বন্ধের একটি কার্যকর পথ খুঁজে বের করা। মূলত যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হতে চললেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরিবর্তে আরও জটিল রূপ নেওয়ায় এই তিন আঞ্চলিক শক্তিধর দেশ একযোগে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

কূটনৈতিক এই তৎপরতার ঠিক আগ মুহূর্তে গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে বিস্তারিত কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলো যখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও সাড়ে তিন হাজার মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে এবং ইরানে সম্ভাব্য স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে যুদ্ধ এখন এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ। গতকাল থেকে হুতিরা সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় এখন লোহিত সাগরবাব এল-মানদেব প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাণিজ্যের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। উল্লেখ্য যে, এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ১২ শতাংশ সরবরাহ হয়। হুতিরা যদি এই জলপথ বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ইসলামাবাদের এই বৈঠকের ফলাফলই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্য কি শান্তির পথে ফিরবে, নাকি এক অনিয়ন্ত্রিত মহাযুদ্ধের কবলে পড়বে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ