ঢাকা নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার জয়জয়কার: ইরানে স্থল অভিযানের পথে কি হাঁটছেন ট্রাম্প?



মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার জয়জয়কার: ইরানে স্থল অভিযানের পথে কি হাঁটছেন ট্রাম্প?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের ঘন কালো মেঘে ঢাকা। একদিকে হোয়াইট হাউস থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা বলা হলেও, সমান্তরালভাবে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো—যদি তেহরানের সাথে কোনো সম্মানজনক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে সরাসরি সামরিক শক্তির মাধ্যমে এক চূড়ান্ত আঘাত হানা। এরই মধ্যে এশিয়া থেকে কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন সেনা উভচর জাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২,০০০ প্যারাট্রুপারকে মাত্র ১৮ ঘণ্টার নোটিশে যেকোনো শত্রুঘাঁটি দখলের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র খারগ দ্বীপ। এই দ্বীপটি দিয়েই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প আশির দশক থেকেই এই দ্বীপে হামলার স্বপ্ন দেখে আসছেন, যা কার্যকর হলে তেহরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। এছাড়া লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে কিশমি বা লারাক দ্বীপের মতো কৌশলগত পয়েন্টগুলোও এখন মার্কিন নিশানায় রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বড় কোনো স্থলযুদ্ধ ছাড়া লক্ষ্য অর্জনের আশা ব্যক্ত করলেও, পেন্টাগনের এই ব্যাপক প্রস্তুতি ভিন্ন কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে এই সম্ভাব্য অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ড্রোনের ব্যবহার এবং নিখুঁত রকেট হামলার মুখে মার্কিন প্যারাট্রুপারদের অবতরণ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এছাড়া গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর নিখোঁজ হওয়া ৪৪০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করাও মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অন্যতম প্রধান মিশন হতে পারে। আপাতত ট্রাম্প আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার হুমকি স্থগিত রেখেছেন। যদি এই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান না আসে, তবে অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পরবর্তী ও ভয়াবহতম ধাপ শুরু করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার জয়জয়কার: ইরানে স্থল অভিযানের পথে কি হাঁটছেন ট্রাম্প?

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের ঘন কালো মেঘে ঢাকা। একদিকে হোয়াইট হাউস থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা বলা হলেও, সমান্তরালভাবে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো—যদি তেহরানের সাথে কোনো সম্মানজনক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে সরাসরি সামরিক শক্তির মাধ্যমে এক চূড়ান্ত আঘাত হানা। এরই মধ্যে এশিয়া থেকে কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন সেনা উভচর জাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২,০০০ প্যারাট্রুপারকে মাত্র ১৮ ঘণ্টার নোটিশে যেকোনো শত্রুঘাঁটি দখলের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র খারগ দ্বীপ। এই দ্বীপটি দিয়েই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প আশির দশক থেকেই এই দ্বীপে হামলার স্বপ্ন দেখে আসছেন, যা কার্যকর হলে তেহরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। এছাড়া লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে কিশমি বা লারাক দ্বীপের মতো কৌশলগত পয়েন্টগুলোও এখন মার্কিন নিশানায় রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বড় কোনো স্থলযুদ্ধ ছাড়া লক্ষ্য অর্জনের আশা ব্যক্ত করলেও, পেন্টাগনের এই ব্যাপক প্রস্তুতি ভিন্ন কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে এই সম্ভাব্য অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ড্রোনের ব্যবহার এবং নিখুঁত রকেট হামলার মুখে মার্কিন প্যারাট্রুপারদের অবতরণ বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এছাড়া গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর নিখোঁজ হওয়া ৪৪০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করাও মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অন্যতম প্রধান মিশন হতে পারে। আপাতত ট্রাম্প আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার হুমকি স্থগিত রেখেছেন। যদি এই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান না আসে, তবে অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পরবর্তী ও ভয়াবহতম ধাপ শুরু করতে পারে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ