ঢাকা নিউজ

ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মার্কিন সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি



ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মার্কিন সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের খারগ দ্বীপে সম্ভাব্য স্থল আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকহারে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সৈন্য পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছেছে, যার মধ্যে রয়েছে আড়াই হাজার বিশেষায়িত মেরিন সেনা। এর ফলে ওই অঞ্চলে বর্তমানে মোট মার্কিন সেনার সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া পেন্টাগন আরও ১০ হাজার পদাতিক সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস ত্রিপোলি সাড়ে তিন সহস্রাধিক নাবিক ও মেরিন সেনা নিয়ে ইতিমধ্যে গন্তব্যে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ২ হাজার প্যারাট্রুপার এবং ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের আরও আড়াই হাজার সদস্য বর্তমানে পথে রয়েছে। পেন্টাগন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিশাল বাহিনীকে কৌশলগতভাবে ইরানের খারগ দ্বীপের আক্রমণাত্মক দূরত্বের মধ্যেই অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাপক সেনা সমাবেশের পেছনে তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রথমত, ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া; দ্বিতীয়ত, নিখোঁজ হওয়া সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ উদ্ধার করা এবং তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়া। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব আগে থেকেই ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে, যা বাস্তবায়নে সরাসরি পদাতিক সেনার প্রয়োজনীয়তা দেখছে তারা।

বর্তমানে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটিগুলো এই অভিযানের মূল মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। তবে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতির কথা উল্লেখ করে অনেক বিশেষজ্ঞ এই ব্যাপক সেনা মোতায়েনকে ‘অশুভ লক্ষণ’ হিসেবে দেখছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনার কথা শোনা যাচ্ছে, তবুও বর্তমান সামরিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই সংঘাত নিরসনের পথ এখনও অনেক দূরে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬


ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মার্কিন সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের খারগ দ্বীপে সম্ভাব্য স্থল আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকহারে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সৈন্য পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছেছে, যার মধ্যে রয়েছে আড়াই হাজার বিশেষায়িত মেরিন সেনা। এর ফলে ওই অঞ্চলে বর্তমানে মোট মার্কিন সেনার সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া পেন্টাগন আরও ১০ হাজার পদাতিক সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস ত্রিপোলি সাড়ে তিন সহস্রাধিক নাবিক ও মেরিন সেনা নিয়ে ইতিমধ্যে গন্তব্যে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ২ হাজার প্যারাট্রুপার এবং ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের আরও আড়াই হাজার সদস্য বর্তমানে পথে রয়েছে। পেন্টাগন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিশাল বাহিনীকে কৌশলগতভাবে ইরানের খারগ দ্বীপের আক্রমণাত্মক দূরত্বের মধ্যেই অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাপক সেনা সমাবেশের পেছনে তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রথমত, ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া; দ্বিতীয়ত, নিখোঁজ হওয়া সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ উদ্ধার করা এবং তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়া। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব আগে থেকেই ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে, যা বাস্তবায়নে সরাসরি পদাতিক সেনার প্রয়োজনীয়তা দেখছে তারা।

বর্তমানে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের স্থায়ী মার্কিন ঘাঁটিগুলো এই অভিযানের মূল মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। তবে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতির কথা উল্লেখ করে অনেক বিশেষজ্ঞ এই ব্যাপক সেনা মোতায়েনকে ‘অশুভ লক্ষণ’ হিসেবে দেখছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনার কথা শোনা যাচ্ছে, তবুও বর্তমান সামরিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই সংঘাত নিরসনের পথ এখনও অনেক দূরে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ