ঢাকা নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের স্থল আগ্রাসন ঠেকাতে ইরানের পাশে দাঁড়াচ্ছে রাশিয়ার চেচেন বাহিনী



যুক্তরাষ্ট্রের স্থল আগ্রাসন ঠেকাতে ইরানের পাশে দাঁড়াচ্ছে রাশিয়ার চেচেন বাহিনী
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান ৩২ দিনে গড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই হামলায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে পরাজিত করতে না পেরে এখন স্থল আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সৈন্যরা স্থলপথে হামলা চালালে তাদের প্রতিহত করতে ইরানের পক্ষে যুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার রমজান কাদিরভের অনুগত চেচেন সামরিক ইউনিটগুলো। মঙ্গলবার ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কাদিরভপন্থী এই বাহিনীগুলো ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরাইল অভিযানকে একটি ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা এই সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকে ‘জিহাদ’ বা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষায় ভালো ও মন্দের লড়াই হিসেবে বর্ণনা করে সেখানে মোতায়েন হওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। কয়েক সপ্তাহের বিমান হামলায় কোনো চূড়ান্ত ফলাফল না আসায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে এই স্থল হামলার জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার সময়। এই যুদ্ধের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও জড়িয়ে আছে। এর জবাবে তেহরানও নিরবচ্ছিন্ন সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

খবর পাওয়া গেছে যে, ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক অবকাঠামো এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী এ পর্যন্ত অন্তত ৮৬ দফা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘাত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

এরই মধ্যে ইরান অভিযোগ করেছে যে, ইউক্রেন সরাসরি মার্কিন ও ইসরাইলি অভিযানে সহায়তা করছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের দূত আমির সাইদ ইরাভানি দাবি করেছেন যে, কিয়েভ এই অভিযানে সহায়তার জন্য শত শত বিশেষজ্ঞ মোতায়েন করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেনীয় কর্মীদের এই সংশ্লিষ্টতা চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে এই সংঘাতের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করছে।

চেচেন সৈন্য সমাবেশ বা ইউক্রেনীয় সেনা মোতায়েনের বিষয়ে নিরপেক্ষ কোনো নিশ্চিতকরণ না পাওয়া গেলেও, এই দাবিগুলো সংঘাতটি আরও বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। উল্লেখ্য যে, রমজান কাদিরভ নেতৃত্বাধীন চেচেন সামরিক ইউনিটগুলো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন থেকে বিভিন্ন সময় রুশ সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে থাকে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের স্থল আগ্রাসন ঠেকাতে ইরানের পাশে দাঁড়াচ্ছে রাশিয়ার চেচেন বাহিনী

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান ৩২ দিনে গড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই হামলায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে পরাজিত করতে না পেরে এখন স্থল আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সৈন্যরা স্থলপথে হামলা চালালে তাদের প্রতিহত করতে ইরানের পক্ষে যুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার রমজান কাদিরভের অনুগত চেচেন সামরিক ইউনিটগুলো। মঙ্গলবার ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কাদিরভপন্থী এই বাহিনীগুলো ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরাইল অভিযানকে একটি ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা এই সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকে ‘জিহাদ’ বা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষায় ভালো ও মন্দের লড়াই হিসেবে বর্ণনা করে সেখানে মোতায়েন হওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। কয়েক সপ্তাহের বিমান হামলায় কোনো চূড়ান্ত ফলাফল না আসায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে এই স্থল হামলার জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার সময়। এই যুদ্ধের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও জড়িয়ে আছে। এর জবাবে তেহরানও নিরবচ্ছিন্ন সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

খবর পাওয়া গেছে যে, ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক অবকাঠামো এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী এ পর্যন্ত অন্তত ৮৬ দফা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘাত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

এরই মধ্যে ইরান অভিযোগ করেছে যে, ইউক্রেন সরাসরি মার্কিন ও ইসরাইলি অভিযানে সহায়তা করছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের দূত আমির সাইদ ইরাভানি দাবি করেছেন যে, কিয়েভ এই অভিযানে সহায়তার জন্য শত শত বিশেষজ্ঞ মোতায়েন করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেনীয় কর্মীদের এই সংশ্লিষ্টতা চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে এই সংঘাতের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করছে।

চেচেন সৈন্য সমাবেশ বা ইউক্রেনীয় সেনা মোতায়েনের বিষয়ে নিরপেক্ষ কোনো নিশ্চিতকরণ না পাওয়া গেলেও, এই দাবিগুলো সংঘাতটি আরও বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। উল্লেখ্য যে, রমজান কাদিরভ নেতৃত্বাধীন চেচেন সামরিক ইউনিটগুলো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন থেকে বিভিন্ন সময় রুশ সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে থাকে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ