ঢাকা নিউজ

ইরান যুদ্ধ ও আরব আমিরাতের ‘লিবেরাল’ মুখোশ: সেন্সরশিপ ও ধরপাকড়ের কবলে দুবাই



ইরান যুদ্ধ ও আরব আমিরাতের ‘লিবেরাল’ মুখোশ: সেন্সরশিপ ও ধরপাকড়ের কবলে দুবাই
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কঠোর সংবাদ নিয়ন্ত্রণ ও ধরপাকড় দেশটির দীর্ঘদিনের লিবেরাল বা উদারপন্থী ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। সম্প্রতি দুবাই বন্দরে কুয়েতের তেলবাহী জাহাজ ‘আল সালমি’ ইরানি ড্রোনের আঘাতে ভস্মীভূত হলেও তার কোনো ভিডিও বা স্পষ্ট ছবি বিশ্ববাসীর সামনে আসতে পারেনি। তথ্য প্রবাহ রুখতে আমিরাত সরকার সাইবার অপরাধ আইনের কঠোর প্রয়োগ শুরু করেছে, যেখানে হামলার ছবি বা ভিডিও শেয়ার করলেই জেল, জরিমানা ও বহিষ্কারের মতো শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

দুবাইয়ের ক্রিক হারবার এলাকায় আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের ছবি পরিবারের কাছে পাঠানোয় বাসিন্দাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একটি প্রাইভেট গ্রুপ চ্যাটে খবর শেয়ার করায় ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। দেশটির সাইবার অপরাধ আইন অনুযায়ী, গুজব বা উত্তেজনামূলক কিছু প্রচার করলে দুই বছরের জেলসহ ২ লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। ‘ডিটেইনড ইন দুবাই’ সংস্থার দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শত শত সাধারণ মানুষ এই আইনের কবলে পড়েছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় এমনকি বাড়িতে গিয়েও মানুষের ফোন তল্লাশি করছে।

আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি এই কড়াকড়ির পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন যে, হামলার ছবি শেয়ার করলে জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে পারে এবং দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে অনেক দেশি-বিদেশি সাংবাদিককেও দিনের পর দিন আটক থাকতে হয়েছে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস জানিয়েছে, আমিরাতে কর্মরত সাংবাদিকরা কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে যুদ্ধের কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারছেন না।

দুবাই নিজেকে বিশ্বের নিরাপদতম শহর হিসেবে দাবি করলেও চলমান যুদ্ধে সেই তকমা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১,৯৭৭টি ড্রোন, ১৯টি ক্রুজ মিসাইল এবং ৪৩৩টি ব্যালিস্টিক মিসাইল আমিরাতে আঘাত হেনেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেক বিদেশি নাগরিক দেশ ছাড়ছেন, স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে চলছে এবং দুবাই বিমানবন্দরের কার্যক্রম সক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমিরাত সরকার তাদের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি রক্ষা করতে মরিয়া হলেও সাইবার অপরাধ আইনের মাধ্যমে গণহারে গ্রেপ্তার দীর্ঘমেয়াদে দেশটির ক্ষতি করছে। মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদকর্মীদের মতে, তথ্য সেন্সরশিপ বা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কোনো দেশ তার ভাবমূর্তি রক্ষা করতে পারে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির নেতিবাচক চিত্রই ফুটিয়ে তোলে। ভারত বা পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর কাছে দুবাই এখনও নিরাপদ মনে হলেও কঠোর কর্তৃত্ববাদী আচরণের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা কমছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬


ইরান যুদ্ধ ও আরব আমিরাতের ‘লিবেরাল’ মুখোশ: সেন্সরশিপ ও ধরপাকড়ের কবলে দুবাই

প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কঠোর সংবাদ নিয়ন্ত্রণ ও ধরপাকড় দেশটির দীর্ঘদিনের লিবেরাল বা উদারপন্থী ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। সম্প্রতি দুবাই বন্দরে কুয়েতের তেলবাহী জাহাজ ‘আল সালমি’ ইরানি ড্রোনের আঘাতে ভস্মীভূত হলেও তার কোনো ভিডিও বা স্পষ্ট ছবি বিশ্ববাসীর সামনে আসতে পারেনি। তথ্য প্রবাহ রুখতে আমিরাত সরকার সাইবার অপরাধ আইনের কঠোর প্রয়োগ শুরু করেছে, যেখানে হামলার ছবি বা ভিডিও শেয়ার করলেই জেল, জরিমানা ও বহিষ্কারের মতো শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

দুবাইয়ের ক্রিক হারবার এলাকায় আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের ছবি পরিবারের কাছে পাঠানোয় বাসিন্দাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একটি প্রাইভেট গ্রুপ চ্যাটে খবর শেয়ার করায় ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। দেশটির সাইবার অপরাধ আইন অনুযায়ী, গুজব বা উত্তেজনামূলক কিছু প্রচার করলে দুই বছরের জেলসহ ২ লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। ‘ডিটেইনড ইন দুবাই’ সংস্থার দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শত শত সাধারণ মানুষ এই আইনের কবলে পড়েছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় এমনকি বাড়িতে গিয়েও মানুষের ফোন তল্লাশি করছে।

আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি এই কড়াকড়ির পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন যে, হামলার ছবি শেয়ার করলে জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে পারে এবং দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে অনেক দেশি-বিদেশি সাংবাদিককেও দিনের পর দিন আটক থাকতে হয়েছে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস জানিয়েছে, আমিরাতে কর্মরত সাংবাদিকরা কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে যুদ্ধের কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারছেন না।

দুবাই নিজেকে বিশ্বের নিরাপদতম শহর হিসেবে দাবি করলেও চলমান যুদ্ধে সেই তকমা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১,৯৭৭টি ড্রোন, ১৯টি ক্রুজ মিসাইল এবং ৪৩৩টি ব্যালিস্টিক মিসাইল আমিরাতে আঘাত হেনেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেক বিদেশি নাগরিক দেশ ছাড়ছেন, স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে চলছে এবং দুবাই বিমানবন্দরের কার্যক্রম সক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমিরাত সরকার তাদের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি রক্ষা করতে মরিয়া হলেও সাইবার অপরাধ আইনের মাধ্যমে গণহারে গ্রেপ্তার দীর্ঘমেয়াদে দেশটির ক্ষতি করছে। মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদকর্মীদের মতে, তথ্য সেন্সরশিপ বা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কোনো দেশ তার ভাবমূর্তি রক্ষা করতে পারে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির নেতিবাচক চিত্রই ফুটিয়ে তোলে। ভারত বা পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর কাছে দুবাই এখনও নিরাপদ মনে হলেও কঠোর কর্তৃত্ববাদী আচরণের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা কমছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ