ইরান যুদ্ধের এক মাস পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার দেশ এই যুদ্ধের মূল ও কৌশলগত লক্ষ্যগুলো পূরণের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নামক এই অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং তাদের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা এখন মৃত বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের সক্ষমতা এখন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে এবং আমেরিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় জয় পাচ্ছে।
ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল এবং দ্রুততার সাথে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছিল। তিনি ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না। ইরানের হাতে যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই যুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর তেল ও গ্যাস উৎপাদক দেশ এবং তারা হরমুজ প্রণালির ওপর মোটেও নির্ভরশীল নয়। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব নিতে এবং প্রণালিটি দখল করে রক্ষা করার আহ্বান জানান। ট্রাম্পের মতে, যেসব দেশ জ্বালানি সংকটে রয়েছে তাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনা।
এই যুদ্ধকে মার্কিন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি 'সত্যিকারের বিনিয়োগ' হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, এর ফলে আমেরিকানরা এখন পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল থেকে মুক্ত এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত শতকের যুদ্ধগুলো বছরের পর বছর চললেও এই সংঘাত মাত্র ৩২ দিনেই বড় সাফল্যে এনেছে। তবে তার এই বক্তব্যের কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা বা সময়রেখা না থাকায় বিশ্লেষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম চার শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিলেও আইনি জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে জানা গেছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই ভাষণে যুদ্ধের শেষ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধের এক মাস পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার দেশ এই যুদ্ধের মূল ও কৌশলগত লক্ষ্যগুলো পূরণের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নামক এই অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং তাদের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা এখন মৃত বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের সক্ষমতা এখন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে এবং আমেরিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় জয় পাচ্ছে।
ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল এবং দ্রুততার সাথে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছিল। তিনি ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না। ইরানের হাতে যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই যুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর তেল ও গ্যাস উৎপাদক দেশ এবং তারা হরমুজ প্রণালির ওপর মোটেও নির্ভরশীল নয়। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব নিতে এবং প্রণালিটি দখল করে রক্ষা করার আহ্বান জানান। ট্রাম্পের মতে, যেসব দেশ জ্বালানি সংকটে রয়েছে তাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনা।
এই যুদ্ধকে মার্কিন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি 'সত্যিকারের বিনিয়োগ' হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, এর ফলে আমেরিকানরা এখন পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল থেকে মুক্ত এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত শতকের যুদ্ধগুলো বছরের পর বছর চললেও এই সংঘাত মাত্র ৩২ দিনেই বড় সাফল্যে এনেছে। তবে তার এই বক্তব্যের কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা বা সময়রেখা না থাকায় বিশ্লেষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম চার শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিলেও আইনি জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে জানা গেছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই ভাষণে যুদ্ধের শেষ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন