বিশ্বজুড়ে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন, ভয়াবহ যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশিষ্ট ক্যাথলিক ধর্মযাজক ও ধর্মতত্ত্ববিদ ফাদার চ্যাড রিপার্গার। তার মতে, বর্তমান বিশ্বের এই টালমাটাল পরিস্থিতি ধর্মীয় গ্রন্থে বর্ণিত 'অ্যান্টিক্রাইস্ট' বা 'মহাপ্রতারকের' উত্থানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ বিশ্বকে এক নতুন ও জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে যা প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে মিলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
খ্রিস্টান, ইসলাম ও ইহুদি—এই তিন প্রধান ধর্মেই মহাপ্রতারকের ধারণা বিদ্যমান। খ্রিস্টান ধর্মে তাকে 'অ্যান্টিক্রাইস্ট' বলা হয়, যে যিশু খ্রিস্টের বিরোধিতা করে মানুষকে বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত করবে। ইসলামি ধর্মতত্ত্বে তাকে 'আল-মাসিহ আদ-দাজ্জাল' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যে নিজেকে ঈশ্বর দাবি করে পৃথিবীতে অনাচার ছড়িয়ে দেবে। অন্যদিকে, ইহুদি ঐতিহ্যে 'আর্মিলাস' নামক এক অত্যাচারী শত্রুর কথা উল্লেখ আছে, যে প্রকৃত মসিহের বিরোধিতা করবে।
সম্প্রতি ‘শন রায়ান শো’-তে অংশ নিয়ে ফাদার রিপার্গার জানান, পূর্ববর্তী গির্জা নেতাদের বর্ণিত পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের গভীর মিল রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই মহাপ্রতারক এমন এক সময়ে আবির্ভূত হবে যখন সমাজে নৈতিকতার চরম পতন ঘটবে। তার মতে, গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বে নৈতিক অবক্ষয় অব্যাহত রয়েছে, যা মূলত সেই অশুভ শক্তির আগমনের পথ প্রশস্ত করছে।
এই ধর্মতত্ত্ববিদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মহাপ্রতারক বা দাজ্জাল সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার বদলে মূলত বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীকে নিজের মুঠোয় রাখবে। অর্থনৈতিক এই নিয়ন্ত্রণই হবে তার বিশ্ব শাসনের প্রধান হাতিয়ার। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও সংঘাতগুলো সেই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র তৈরি করছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তবে ফাদার রিপার্গার স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এই ভবিষ্যদ্বাণী এখনই চূড়ান্তভাবে পূরণ হচ্ছে না। কিন্তু বর্তমানের বহুমুখী সংকটগুলো এমন একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে এই মহাপ্রতারকের উত্থান ও আধিপত্য বিস্তারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ধর্মীয় ও ভূ-রাজনৈতিক এই সমীকরণগুলো এখন বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি ধর্মতত্ত্ববিদদেরও ভাবিয়ে তুলছে।

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বজুড়ে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন, ভয়াবহ যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশিষ্ট ক্যাথলিক ধর্মযাজক ও ধর্মতত্ত্ববিদ ফাদার চ্যাড রিপার্গার। তার মতে, বর্তমান বিশ্বের এই টালমাটাল পরিস্থিতি ধর্মীয় গ্রন্থে বর্ণিত 'অ্যান্টিক্রাইস্ট' বা 'মহাপ্রতারকের' উত্থানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ বিশ্বকে এক নতুন ও জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে যা প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে মিলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
খ্রিস্টান, ইসলাম ও ইহুদি—এই তিন প্রধান ধর্মেই মহাপ্রতারকের ধারণা বিদ্যমান। খ্রিস্টান ধর্মে তাকে 'অ্যান্টিক্রাইস্ট' বলা হয়, যে যিশু খ্রিস্টের বিরোধিতা করে মানুষকে বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত করবে। ইসলামি ধর্মতত্ত্বে তাকে 'আল-মাসিহ আদ-দাজ্জাল' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যে নিজেকে ঈশ্বর দাবি করে পৃথিবীতে অনাচার ছড়িয়ে দেবে। অন্যদিকে, ইহুদি ঐতিহ্যে 'আর্মিলাস' নামক এক অত্যাচারী শত্রুর কথা উল্লেখ আছে, যে প্রকৃত মসিহের বিরোধিতা করবে।
সম্প্রতি ‘শন রায়ান শো’-তে অংশ নিয়ে ফাদার রিপার্গার জানান, পূর্ববর্তী গির্জা নেতাদের বর্ণিত পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের গভীর মিল রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই মহাপ্রতারক এমন এক সময়ে আবির্ভূত হবে যখন সমাজে নৈতিকতার চরম পতন ঘটবে। তার মতে, গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বে নৈতিক অবক্ষয় অব্যাহত রয়েছে, যা মূলত সেই অশুভ শক্তির আগমনের পথ প্রশস্ত করছে।
এই ধর্মতত্ত্ববিদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মহাপ্রতারক বা দাজ্জাল সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার বদলে মূলত বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীকে নিজের মুঠোয় রাখবে। অর্থনৈতিক এই নিয়ন্ত্রণই হবে তার বিশ্ব শাসনের প্রধান হাতিয়ার। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও সংঘাতগুলো সেই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র তৈরি করছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তবে ফাদার রিপার্গার স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এই ভবিষ্যদ্বাণী এখনই চূড়ান্তভাবে পূরণ হচ্ছে না। কিন্তু বর্তমানের বহুমুখী সংকটগুলো এমন একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে এই মহাপ্রতারকের উত্থান ও আধিপত্য বিস্তারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ধর্মীয় ও ভূ-রাজনৈতিক এই সমীকরণগুলো এখন বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি ধর্মতত্ত্ববিদদেরও ভাবিয়ে তুলছে।

আপনার মতামত লিখুন