ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনীতিক এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য রিমা হাসানকে একটি বিতর্কিত সামাজিক মাধ্যম পোস্ট এবং মাদক রাখার অভিযোগে আটক করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। তার দলীয় সহকর্মী এবং 'লা ফ্রঁস আনবাউড'-এর নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত মার্চ মাসে একটি পুরনো টুইট শেয়ার করার কারণে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে পারিসিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিমা হাসানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মূলে রয়েছে ১৯৭২ সালে তেল আবিবের লোদ বিমানবন্দরে জাপানিজ রেড আর্মির চালানো একটি হামলা সংক্রান্ত পোস্ট। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। রিমা হাসান তার পোস্টে সেই হামলায় দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির বক্তব্য উদ্ধৃত করেছিলেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের যুক্তিতে ওই হামলাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।
আটকের সময় রিমা হাসানের কাছ থেকে আইন বহির্ভূতভাবে সামান্য পরিমাণ 'সিনথেটিক ড্রাগ' বা কৃত্রিম মাদক পাওয়া গেছে বলে সংবাদ সংস্থা এএফপি দাবি করেছে। তবে এই অভিযোগ বা আটকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত রিমা হাসান কিংবা তার আইনি প্রতিনিধির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৩৩ বছর বয়সি রিমা হাসান ২০২৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন এবং গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের একজন কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। গত বছর তিনি গাজাগামী একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী বহরেও অংশ নিয়েছিলেন। তার এই আটকের ঘটনায় ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বামপন্থী নেতারা এই ঘটনাকে ফিলিস্তিন সমর্থকদের ভয় দেখানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল এবং নজিরবিহীন দমনপীড়ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই ঘটনার ফলে ফ্রান্সে সংসদ সদস্যদের 'দায়মুক্তি' বা আইনি বিশেষ সুবিধা কার্যকর আছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে রিমা হাসানকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনীতিক এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য রিমা হাসানকে একটি বিতর্কিত সামাজিক মাধ্যম পোস্ট এবং মাদক রাখার অভিযোগে আটক করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। তার দলীয় সহকর্মী এবং 'লা ফ্রঁস আনবাউড'-এর নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত মার্চ মাসে একটি পুরনো টুইট শেয়ার করার কারণে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে পারিসিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিমা হাসানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মূলে রয়েছে ১৯৭২ সালে তেল আবিবের লোদ বিমানবন্দরে জাপানিজ রেড আর্মির চালানো একটি হামলা সংক্রান্ত পোস্ট। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। রিমা হাসান তার পোস্টে সেই হামলায় দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির বক্তব্য উদ্ধৃত করেছিলেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের যুক্তিতে ওই হামলাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।
আটকের সময় রিমা হাসানের কাছ থেকে আইন বহির্ভূতভাবে সামান্য পরিমাণ 'সিনথেটিক ড্রাগ' বা কৃত্রিম মাদক পাওয়া গেছে বলে সংবাদ সংস্থা এএফপি দাবি করেছে। তবে এই অভিযোগ বা আটকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত রিমা হাসান কিংবা তার আইনি প্রতিনিধির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৩৩ বছর বয়সি রিমা হাসান ২০২৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন এবং গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের একজন কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। গত বছর তিনি গাজাগামী একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী বহরেও অংশ নিয়েছিলেন। তার এই আটকের ঘটনায় ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বামপন্থী নেতারা এই ঘটনাকে ফিলিস্তিন সমর্থকদের ভয় দেখানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল এবং নজিরবিহীন দমনপীড়ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই ঘটনার ফলে ফ্রান্সে সংসদ সদস্যদের 'দায়মুক্তি' বা আইনি বিশেষ সুবিধা কার্যকর আছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে রিমা হাসানকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন