ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করা এখন ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষের জন্যই এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ও সম্মানের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সংঘাতের ৩৫তম দিনে এই বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশই তাঁদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
কেন এই পাইলটকে নিয়ে উভয় পক্ষ এত মরিয়া, তার প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি পাইলটকে জীবিত বন্দি করতে পারে, তবে তাঁর কাছ থেকে মার্কিন আগ্রাসনের পরিকল্পনা, ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা এবং গোপন আক্রমণ পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদায়ের চেষ্টা করা হবে। এটি যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে।
বন্দি পাইলটকে জনসম্মুখে প্রদর্শন করে ইরান বিশ্ববাসীকে দেখাতে চায় যে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে পরাজিত হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সফলভাবে তাঁকে উদ্ধার করতে পারে, তবে সেটি হবে তাঁদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও কমান্ডো বাহিনীর সক্ষমতার এক বড় বিজয়।
পাইলটকে ধরতে ইরান সরকার সাধারণ নাগরিকদের জন্য ১০ বিলিয়ন তোমান (৬০ হাজার ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এর ফলে স্থানীয় গ্রামবাসী ও সাধারণ মানুষও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তল্লাশিতে নেমেছে, যা মার্কিন উদ্ধারকারী দলের (সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ) কাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল করে তুলেছে।
পাইলট যদি ইরানের হাতে বন্দি হন, তবে তাঁকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা তাঁদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দাবি করতে পারে। এমনকি ওয়াশিংটনকে সামরিক হামলা থেকে পিছু হটতে বাধ্য করার জন্য এটি একটি বড় 'বারগেইনিং চিপ' হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাঁদের উন্নত এইচএইচ-৬০ডব্লিউ হেলিকপ্টার, এইচসি-১৩০জে রিফুয়েলিং বিমান এবং সুরক্ষা দিতে এ-১০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের সেনাদের সুরক্ষায় চরম সীমা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত।
বর্তমানে ওই নিখোঁজ পাইলটকে ঘিরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান দাবি করছে, তাঁদের হাতে থাকা ইজেকশন সিটের ছবি এবং পাইলটের অবতরণের তথ্য এটিই প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। পাইলটের ভাগ্যের ওপরই নির্ভর করছে এই যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা।

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করা এখন ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষের জন্যই এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ও সম্মানের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সংঘাতের ৩৫তম দিনে এই বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশই তাঁদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
কেন এই পাইলটকে নিয়ে উভয় পক্ষ এত মরিয়া, তার প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি পাইলটকে জীবিত বন্দি করতে পারে, তবে তাঁর কাছ থেকে মার্কিন আগ্রাসনের পরিকল্পনা, ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা এবং গোপন আক্রমণ পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদায়ের চেষ্টা করা হবে। এটি যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে।
বন্দি পাইলটকে জনসম্মুখে প্রদর্শন করে ইরান বিশ্ববাসীকে দেখাতে চায় যে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে পরাজিত হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সফলভাবে তাঁকে উদ্ধার করতে পারে, তবে সেটি হবে তাঁদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও কমান্ডো বাহিনীর সক্ষমতার এক বড় বিজয়।
পাইলটকে ধরতে ইরান সরকার সাধারণ নাগরিকদের জন্য ১০ বিলিয়ন তোমান (৬০ হাজার ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এর ফলে স্থানীয় গ্রামবাসী ও সাধারণ মানুষও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তল্লাশিতে নেমেছে, যা মার্কিন উদ্ধারকারী দলের (সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ) কাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল করে তুলেছে।
পাইলট যদি ইরানের হাতে বন্দি হন, তবে তাঁকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা তাঁদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দাবি করতে পারে। এমনকি ওয়াশিংটনকে সামরিক হামলা থেকে পিছু হটতে বাধ্য করার জন্য এটি একটি বড় 'বারগেইনিং চিপ' হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাঁদের উন্নত এইচএইচ-৬০ডব্লিউ হেলিকপ্টার, এইচসি-১৩০জে রিফুয়েলিং বিমান এবং সুরক্ষা দিতে এ-১০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের সেনাদের সুরক্ষায় চরম সীমা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত।
বর্তমানে ওই নিখোঁজ পাইলটকে ঘিরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান দাবি করছে, তাঁদের হাতে থাকা ইজেকশন সিটের ছবি এবং পাইলটের অবতরণের তথ্য এটিই প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। পাইলটের ভাগ্যের ওপরই নির্ভর করছে এই যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা।

আপনার মতামত লিখুন