ঢাকা নিউজ

জ্বালানির দাম বাড়লে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা



জ্বালানির দাম বাড়লে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম। শনিবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানে বাংলাদেশের তুলনায় দ্বিগুণ মূল্যে জ্বালানি বিক্রি হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকি দিয়ে চাহিদা পূরণ করা সরকারের পক্ষে কঠিন হবে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

অধ্যাপক তামিম তার বক্তব্যে অতীতের ভুল জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে বলেন, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৭ থেকে ১৫ দিনের জ্বালানি মজুত থাকলেও জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যার ফলে মানুষ চাহিদার চেয়ে বেশি পেট্রল ও অকটেন কিনছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে সরকার জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ নিয়ে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় বর্তমানে সাধারণ মানুষ সরকারি তথ্যের ওপর আস্থা হারিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মুনাফা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষজ্ঞ জানান, গত ১০ বছরে বিপিসি প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করলেও সেই অর্থ আপদকালীন মজুতের জন্য না রেখে অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য পূর্বের নেতৃত্বের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হয় এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত সময়ের ভুল নীতির মাশুল এখন জনগণকে দিতে হচ্ছে। তিনি আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তিকে একপাক্ষিক হিসেবে অভিহিত করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সকল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চুক্তি পুনঃমূল্যায়নের দাবি জানান। একইসঙ্গে কুইক রেন্টালের ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদানের বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬


জ্বালানির দাম বাড়লে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম। শনিবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানে বাংলাদেশের তুলনায় দ্বিগুণ মূল্যে জ্বালানি বিক্রি হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকি দিয়ে চাহিদা পূরণ করা সরকারের পক্ষে কঠিন হবে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

অধ্যাপক তামিম তার বক্তব্যে অতীতের ভুল জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে বলেন, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৭ থেকে ১৫ দিনের জ্বালানি মজুত থাকলেও জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যার ফলে মানুষ চাহিদার চেয়ে বেশি পেট্রল ও অকটেন কিনছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে সরকার জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ নিয়ে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় বর্তমানে সাধারণ মানুষ সরকারি তথ্যের ওপর আস্থা হারিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মুনাফা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষজ্ঞ জানান, গত ১০ বছরে বিপিসি প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করলেও সেই অর্থ আপদকালীন মজুতের জন্য না রেখে অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য পূর্বের নেতৃত্বের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হয় এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত সময়ের ভুল নীতির মাশুল এখন জনগণকে দিতে হচ্ছে। তিনি আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তিকে একপাক্ষিক হিসেবে অভিহিত করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সকল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চুক্তি পুনঃমূল্যায়নের দাবি জানান। একইসঙ্গে কুইক রেন্টালের ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদানের বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ