ঢাকা নিউজ

ইসরায়েলে নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংকট: ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা, দেশ ছাড়ার হিড়িক



ইসরায়েলে নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংকট: ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা, দেশ ছাড়ার হিড়িক
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি একাধিক যুদ্ধের সম্মুখীন হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অনৈক্য ও অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যৌথ সামরিক আগ্রাসন এখন খোদ ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যেই তীব্র অসন্তোষ ও ভয়ের সঞ্চার করেছে।

বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব শনিবার (৪ এপ্রিল) সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে শত শত ইসরায়েলি নাগরিক তেল আবিবের রাস্তায় নেমে আসেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ এবং ইরানের সাথে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে তারা স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “বোমা নয়—আলোচনা করুন!” ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি তৃণমূল গোষ্ঠী 'স্ট্যান্ডিং টুগেদার'-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা গাজা, লেবানন ও ইরানে চলমান অন্তহীন যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরের গণহত্যার অবসান চান।

জীবনযাত্রায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলিদের দৈনন্দিন জীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়:

  • অর্থনৈতিক ধস: জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে। জ্বালানি, খাবার ও পরিবহণ খরচ বাড়ার পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে যুদ্ধ চালাতে ইসরায়েলের খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার।

  • মানসিক বিপর্যয়: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচতে নাগরিকদের দিনের অধিকাংশ সময় বাঙ্কারে কাটাতে হচ্ছে। বারবার সাইরেন বাজার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা জনমনে চরম হতাশা তৈরি করেছে।

দেশ ছাড়ার হিড়িক ও তাবা সীমান্ত নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিপুল সংখ্যক ইহুদি বর্তমানে জন্মভূমি ছাড়ছে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে প্রায় ১ লাখ ইসরায়েলি দেশত্যাগ করেছে। আগে যেখানে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি হামলা থেকে বাঁচতে মিশর সীমান্তে ভিড় করত, এখন পরিস্থিতি উল্টো। গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি পর্যটন মন্ত্রণালয় ‘তাবা সীমান্ত’ পারাপারের জন্য বিশেষ শাটল সার্ভিস চালু করেছে, যা এখন ইসরায়েলিদের পালানোর প্রধান পথে পরিণত হয়েছে।

বিপরীত চিত্র ইরানে ইসরায়েলে যখন সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হচ্ছে, তখন ইরানে চিত্রটি ভিন্ন। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যু এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও সাধারণ ইরানিরা আরও বেশি একাট্টা হচ্ছে। এমনকি উপজাতি নারীদেরও সশস্ত্র অবস্থায় মার্কিন পাইলটদের খুঁজতে দেখা গেছে, যা দেশটির জনগণের লড়াকু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

যদিও ইসরায়েলি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী প্রায় ২০ হাজার ইহুদি দেশে ফিরেছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে—নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে বাঁচতে উচ্চ দক্ষ পেশাদার ও সাধারণ নাগরিকরা এখন ইসরায়েল ছাড়তেই বেশি আগ্রহী। এই গণপ্রস্থান ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬


ইসরায়েলে নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংকট: ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা, দেশ ছাড়ার হিড়িক

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি একাধিক যুদ্ধের সম্মুখীন হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অনৈক্য ও অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যৌথ সামরিক আগ্রাসন এখন খোদ ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যেই তীব্র অসন্তোষ ও ভয়ের সঞ্চার করেছে।

বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব শনিবার (৪ এপ্রিল) সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে শত শত ইসরায়েলি নাগরিক তেল আবিবের রাস্তায় নেমে আসেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ এবং ইরানের সাথে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে তারা স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “বোমা নয়—আলোচনা করুন!” ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি তৃণমূল গোষ্ঠী 'স্ট্যান্ডিং টুগেদার'-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা গাজা, লেবানন ও ইরানে চলমান অন্তহীন যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরের গণহত্যার অবসান চান।

জীবনযাত্রায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলিদের দৈনন্দিন জীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়:

  • অর্থনৈতিক ধস: জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে। জ্বালানি, খাবার ও পরিবহণ খরচ বাড়ার পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে যুদ্ধ চালাতে ইসরায়েলের খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার।

  • মানসিক বিপর্যয়: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচতে নাগরিকদের দিনের অধিকাংশ সময় বাঙ্কারে কাটাতে হচ্ছে। বারবার সাইরেন বাজার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা জনমনে চরম হতাশা তৈরি করেছে।

দেশ ছাড়ার হিড়িক ও তাবা সীমান্ত নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিপুল সংখ্যক ইহুদি বর্তমানে জন্মভূমি ছাড়ছে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে প্রায় ১ লাখ ইসরায়েলি দেশত্যাগ করেছে। আগে যেখানে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি হামলা থেকে বাঁচতে মিশর সীমান্তে ভিড় করত, এখন পরিস্থিতি উল্টো। গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি পর্যটন মন্ত্রণালয় ‘তাবা সীমান্ত’ পারাপারের জন্য বিশেষ শাটল সার্ভিস চালু করেছে, যা এখন ইসরায়েলিদের পালানোর প্রধান পথে পরিণত হয়েছে।

বিপরীত চিত্র ইরানে ইসরায়েলে যখন সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হচ্ছে, তখন ইরানে চিত্রটি ভিন্ন। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যু এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও সাধারণ ইরানিরা আরও বেশি একাট্টা হচ্ছে। এমনকি উপজাতি নারীদেরও সশস্ত্র অবস্থায় মার্কিন পাইলটদের খুঁজতে দেখা গেছে, যা দেশটির জনগণের লড়াকু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

যদিও ইসরায়েলি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী প্রায় ২০ হাজার ইহুদি দেশে ফিরেছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে—নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে বাঁচতে উচ্চ দক্ষ পেশাদার ও সাধারণ নাগরিকরা এখন ইসরায়েল ছাড়তেই বেশি আগ্রহী। এই গণপ্রস্থান ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ