ঢাকা নিউজ

হরমুজ প্রণালি সচল করতে ইরান-ওমান জরুরি বৈঠক



হরমুজ প্রণালি সচল করতে ইরান-ওমান জরুরি বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমান আজ রোববার (৫ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটাম শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে শুরু হওয়া এই বৈঠককে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওমান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মূল লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ জলপথটি দ্রুত উন্মুক্ত করা।

বর্তমানে ইরানের অবরোধের ফলে কয়েক হাজার পণ্যবাহী ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ প্রণালির দুই প্রান্তে আটকা পড়ে আছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। ইরান তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা না থাকলেও এই কৌশলগত প্রণালিটিকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। ওমানের উপ-মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তারা বর্তমানে ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে এই সংকট নিরসনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ওমানের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে মূলত ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের যেকোনো উত্তেজনা প্রশমনে একটি সুনির্দিষ্ট মেকানিজম বা প্রক্রিয়া তৈরির চেষ্টা চলছে। ওমান বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত, তাই তাদের এই উদ্যোগকে যুদ্ধের উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার শেষ মুহূর্তের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য যে, একদিকে ট্রাম্পের ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের’ ভয়াবহ হুমকি এবং অন্যদিকে ইরান-ওমান এই কূটনৈতিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ওই অঞ্চলে বড় ধরনের কোনো সামরিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে কি না। সূত্র: আলজাজিরা।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজ প্রণালি সচল করতে ইরান-ওমান জরুরি বৈঠক

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমান আজ রোববার (৫ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটাম শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে শুরু হওয়া এই বৈঠককে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওমান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মূল লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ জলপথটি দ্রুত উন্মুক্ত করা।

বর্তমানে ইরানের অবরোধের ফলে কয়েক হাজার পণ্যবাহী ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ প্রণালির দুই প্রান্তে আটকা পড়ে আছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। ইরান তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা না থাকলেও এই কৌশলগত প্রণালিটিকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। ওমানের উপ-মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তারা বর্তমানে ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে এই সংকট নিরসনে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ওমানের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে মূলত ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের যেকোনো উত্তেজনা প্রশমনে একটি সুনির্দিষ্ট মেকানিজম বা প্রক্রিয়া তৈরির চেষ্টা চলছে। ওমান বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত, তাই তাদের এই উদ্যোগকে যুদ্ধের উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার শেষ মুহূর্তের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য যে, একদিকে ট্রাম্পের ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের’ ভয়াবহ হুমকি এবং অন্যদিকে ইরান-ওমান এই কূটনৈতিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ওই অঞ্চলে বড় ধরনের কোনো সামরিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে কি না। সূত্র: আলজাজিরা।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ