ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পাঁচ সপ্তাহের মাথায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কিছু চীনা বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ওপেন-সোর্স ডেটা ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির সরঞ্জাম, বিমানবাহী রণতরীর চলাচল এবং যুদ্ধবিমানের মোতায়েন সংক্রান্ত বিশদ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে ইরানের কাছে বিক্রি করছে। এই ঘটনা যুদ্ধ পরিস্থিতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হাংঝৌভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মিজারভিশন’ এবং ‘জিং’আন টেকনোলজি’-র মতো কোম্পানিগুলো পশ্চিমা ও চীনা ডেটা বিশ্লেষণ করে মার্কিন বাহিনীর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর আগের বড় ধরনের সমাবেশ শনাক্ত করার দাবি করেছে। তারা ইসরায়েলের অভদা এয়ার বেস, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস এবং কাতারের আল উইদেদ এয়ার বেস-এ মোতায়েনকৃত মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও ধরন নিয়ে বিশদ তথ্য প্রকাশ করেছে। এমনকি জিং’আন টেকনোলজি দুটি মার্কিন বি-২এ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমানের যোগাযোগ রেকর্ড করারও দাবি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক বাহিনী ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’র (PLA) সঙ্গে যুক্ত। যদিও বেইজিং সরাসরি যুদ্ধে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে, তবে তাদের ‘সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন’ কৌশলের আওতায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান যুদ্ধের এই সময়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। ওয়াশিংটনের আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রায়ান ফেডাসিউক মনে করেন, এই বেসরকারি ভূ-স্থানিক বিশ্লেষণ কোম্পানিগুলো সংকটের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চীনের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এই তথ্যের কার্যকারিতা নিয়ে মতভেদ থাকলেও তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন। সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ডেনিস ওয়াইল্ডার মনে করেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সক্ষমতা অতিরঞ্জিত করে দেখাতে পারে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, প্রতিপক্ষরা ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সতর্ক থেকে নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনের এই প্রযুক্তিগত সহায়তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক আধিপত্যের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট।

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পাঁচ সপ্তাহের মাথায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কিছু চীনা বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ওপেন-সোর্স ডেটা ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির সরঞ্জাম, বিমানবাহী রণতরীর চলাচল এবং যুদ্ধবিমানের মোতায়েন সংক্রান্ত বিশদ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে ইরানের কাছে বিক্রি করছে। এই ঘটনা যুদ্ধ পরিস্থিতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হাংঝৌভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মিজারভিশন’ এবং ‘জিং’আন টেকনোলজি’-র মতো কোম্পানিগুলো পশ্চিমা ও চীনা ডেটা বিশ্লেষণ করে মার্কিন বাহিনীর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর আগের বড় ধরনের সমাবেশ শনাক্ত করার দাবি করেছে। তারা ইসরায়েলের অভদা এয়ার বেস, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস এবং কাতারের আল উইদেদ এয়ার বেস-এ মোতায়েনকৃত মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও ধরন নিয়ে বিশদ তথ্য প্রকাশ করেছে। এমনকি জিং’আন টেকনোলজি দুটি মার্কিন বি-২এ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমানের যোগাযোগ রেকর্ড করারও দাবি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক বাহিনী ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’র (PLA) সঙ্গে যুক্ত। যদিও বেইজিং সরাসরি যুদ্ধে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে, তবে তাদের ‘সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন’ কৌশলের আওতায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান যুদ্ধের এই সময়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। ওয়াশিংটনের আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রায়ান ফেডাসিউক মনে করেন, এই বেসরকারি ভূ-স্থানিক বিশ্লেষণ কোম্পানিগুলো সংকটের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চীনের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এই তথ্যের কার্যকারিতা নিয়ে মতভেদ থাকলেও তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন। সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ডেনিস ওয়াইল্ডার মনে করেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সক্ষমতা অতিরঞ্জিত করে দেখাতে পারে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন যে, প্রতিপক্ষরা ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সতর্ক থেকে নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনের এই প্রযুক্তিগত সহায়তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক আধিপত্যের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট।

আপনার মতামত লিখুন