বর্তমান প্রেক্ষাপটে সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনের ভূমিকা অপরিসীম। এই পরিস্থিতিতে ‘নারীরা কি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারবে?’—এমন প্রশ্নের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান। ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ করা নারী ও পুরুষ উভয়েরই নৈতিক দায়িত্ব।
পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবার ৭১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক উল্লেখ করেন, মুমিন পুরুষ ও নারী একে অপরের সহযোগী। তারা একে অপরকে সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। ইসলামের প্রাথমিক যুগেও নারীদের সামাজিক ও সংগ্রামী ভূমিকার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। হুদায়বিয়ার সন্ধির মতো জটিল সময়ে উম্মে সালামা (রা.)-এর পরামর্শ গ্রহণ এবং উহুদের যুদ্ধে নুসাইবা বিনতে কা’ব (রা.)-এর বীরত্বগাথা এর উজ্জ্বল প্রমাণ।
তবে ইসলামে নারীর এই অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত ও সীমারেখা রয়েছে। সূরা আহযাবের ৩৩ নম্বর আয়াতে শালীনতা ও সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশিষ্ট ইমামগণ—ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম মালিক (রহ.), ইমাম শাফেয়ী (রহ.) এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মতে, নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়া বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া বৈধ, তবে তা অবশ্যই ফিতনা বা অনৈতিক পরিবেশমুক্ত এবং শরীয়তের পর্দা ও নিরাপত্তার সীমানার মধ্যে হতে হবে।
সমসাময়িক আলেমদের মতে, যদি কোনো আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হয় এবং সেখানে অশালীনতা বা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা না থাকে, তবে নারীর অংশগ্রহণ শরীয়তবিরোধী নয়। পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে গৃহবন্দি করেনি, আবার সীমাহীন স্বাধীনতাও দেয়নি; বরং নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অংশগ্রহণের পথ নির্দেশ করেছে। সূত্র: যুগান্তর।

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনের ভূমিকা অপরিসীম। এই পরিস্থিতিতে ‘নারীরা কি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারবে?’—এমন প্রশ্নের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান। ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ করা নারী ও পুরুষ উভয়েরই নৈতিক দায়িত্ব।
পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবার ৭১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক উল্লেখ করেন, মুমিন পুরুষ ও নারী একে অপরের সহযোগী। তারা একে অপরকে সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। ইসলামের প্রাথমিক যুগেও নারীদের সামাজিক ও সংগ্রামী ভূমিকার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। হুদায়বিয়ার সন্ধির মতো জটিল সময়ে উম্মে সালামা (রা.)-এর পরামর্শ গ্রহণ এবং উহুদের যুদ্ধে নুসাইবা বিনতে কা’ব (রা.)-এর বীরত্বগাথা এর উজ্জ্বল প্রমাণ।
তবে ইসলামে নারীর এই অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত ও সীমারেখা রয়েছে। সূরা আহযাবের ৩৩ নম্বর আয়াতে শালীনতা ও সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশিষ্ট ইমামগণ—ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম মালিক (রহ.), ইমাম শাফেয়ী (রহ.) এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মতে, নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়া বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া বৈধ, তবে তা অবশ্যই ফিতনা বা অনৈতিক পরিবেশমুক্ত এবং শরীয়তের পর্দা ও নিরাপত্তার সীমানার মধ্যে হতে হবে।
সমসাময়িক আলেমদের মতে, যদি কোনো আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হয় এবং সেখানে অশালীনতা বা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা না থাকে, তবে নারীর অংশগ্রহণ শরীয়তবিরোধী নয়। পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে গৃহবন্দি করেনি, আবার সীমাহীন স্বাধীনতাও দেয়নি; বরং নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অংশগ্রহণের পথ নির্দেশ করেছে। সূত্র: যুগান্তর।

আপনার মতামত লিখুন