ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধের পরবর্তী গ্যাস সংকটের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। মাসব্যাপী হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাসে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইলকে সমর্থন করায় আরব দেশগুলো তেলের উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ফলে কয়েক মাসের মধ্যে তেলের দাম চারগুণ বেড়ে যায় এবং বিশ্বজুড়ে বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করে। সেই সময়ের সংকট ছিল একটি পরিকল্পিত নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল, যার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছিল।
বর্তমান সংকটে এক মাস ধরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যদিও অনেক দেশ এখন তেলের রিজার্ভ ও বিকল্প ব্যবস্থার কারণে আগের চেয়ে বেশি সহনশীল, তবুও সরবরাহ ঘাটতি কেবল ঘনীভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অলৌকিকভাবে কাল প্রণালি খুলে দিলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পরবর্তী ছয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭০-এর দশকের সংকট মূলত উন্নত দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হলেও বর্তমান পরিস্থিতি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বর্তমান বিশ্ব তেলের ওপর কম নির্ভরশীল এবং আপদকালীন ব্যবস্থায় সুসজ্জিত থাকলেও জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ বন্ধ করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধের পরবর্তী গ্যাস সংকটের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। মাসব্যাপী হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাসে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইলকে সমর্থন করায় আরব দেশগুলো তেলের উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ফলে কয়েক মাসের মধ্যে তেলের দাম চারগুণ বেড়ে যায় এবং বিশ্বজুড়ে বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করে। সেই সময়ের সংকট ছিল একটি পরিকল্পিত নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল, যার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছিল।
বর্তমান সংকটে এক মাস ধরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যদিও অনেক দেশ এখন তেলের রিজার্ভ ও বিকল্প ব্যবস্থার কারণে আগের চেয়ে বেশি সহনশীল, তবুও সরবরাহ ঘাটতি কেবল ঘনীভূত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অলৌকিকভাবে কাল প্রণালি খুলে দিলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পরবর্তী ছয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭০-এর দশকের সংকট মূলত উন্নত দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হলেও বর্তমান পরিস্থিতি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বর্তমান বিশ্ব তেলের ওপর কম নির্ভরশীল এবং আপদকালীন ব্যবস্থায় সুসজ্জিত থাকলেও জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ বন্ধ করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন