আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনে চীনের মধ্যস্থতায় উরুমকিতে আয়োজিত বৈঠকে তিনটি কঠোর শর্ত তুলে ধরেছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বেইজিং দুই পক্ষকে একটি পাঁচ দফা কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা করছে। পাকিস্তান এই আলোচনায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল সন্ত্রাস দমন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো প্রধান তিনটি শর্ত হলো—আফগান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, তাদের সমস্ত অবকাঠামো ভেঙে দিতে হবে এবং এসব পদক্ষেপের যাচাইযোগ্য প্রমাণ দিতে হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই বৈঠক চললেও তাদের চলমান সামরিক অভিযান 'অপারেশন গাজাব লিল হক'-এর নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জানিয়েছেন, তারা আলোচনার মাধ্যমেই পাকিস্তানের সঙ্গে যাবতীয় বিরোধ মেটাতে আগ্রহী। বর্তমানে দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ের প্রতিনিধিদল একটি সম্ভাব্য রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি, সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস এবং নিরাপদ বাণিজ্য রুট চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চীন এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং তাদের বিশেষ দূত দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, শিনজিয়াং অঞ্চলের উরুমকিতে এই বৈঠকের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বেইজিং নিজেও এই অঞ্চলের উগ্রবাদী সংগঠনগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই আলোচনার সফল সমাপ্তি মূলত ইসলামাবাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় কাবুলের আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করছে।

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনে চীনের মধ্যস্থতায় উরুমকিতে আয়োজিত বৈঠকে তিনটি কঠোর শর্ত তুলে ধরেছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বেইজিং দুই পক্ষকে একটি পাঁচ দফা কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা করছে। পাকিস্তান এই আলোচনায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল সন্ত্রাস দমন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো প্রধান তিনটি শর্ত হলো—আফগান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, তাদের সমস্ত অবকাঠামো ভেঙে দিতে হবে এবং এসব পদক্ষেপের যাচাইযোগ্য প্রমাণ দিতে হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই বৈঠক চললেও তাদের চলমান সামরিক অভিযান 'অপারেশন গাজাব লিল হক'-এর নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জানিয়েছেন, তারা আলোচনার মাধ্যমেই পাকিস্তানের সঙ্গে যাবতীয় বিরোধ মেটাতে আগ্রহী। বর্তমানে দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ের প্রতিনিধিদল একটি সম্ভাব্য রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি, সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস এবং নিরাপদ বাণিজ্য রুট চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চীন এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং তাদের বিশেষ দূত দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, শিনজিয়াং অঞ্চলের উরুমকিতে এই বৈঠকের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বেইজিং নিজেও এই অঞ্চলের উগ্রবাদী সংগঠনগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই আলোচনার সফল সমাপ্তি মূলত ইসলামাবাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় কাবুলের আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করছে।

আপনার মতামত লিখুন