ইরানের হাতে বর্তমানে কতগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে, তা নিয়ে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) অভ্যন্তরে গভীর অনিশ্চয়তা ও মতভেদ তৈরি হয়েছে। আইডিএফ-এর নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম পোস্ট’-এর কাছে স্বীকার করেছে যে, প্রকৃতপক্ষে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সঠিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কারো কিছু জানা নেই।
সম্প্রতি ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে আইডিএফ বিমান বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, ইরানের কাছে এখনো ১,০০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এই তথ্যটি আইডিএফ-এর পূর্বের অনুমানের সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ইরানের হাতে মাত্র কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে। এই পরস্পরবিরোধী তথ্য ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মহলে এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এই অনিশ্চয়তার একটি প্রধান কারণ হলো ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রকৃত অবস্থা। গোয়েন্দা সূত্রমতে, ইরান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে—এমনকি একদিনের কম সময়ের মধ্যে—ধসে পড়া সাইলো বা ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো পুনরুদ্ধার করার সক্ষমতা তৈরি করেছে। ফলে মাটির নিচে চাপা পড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেকোনো সময় পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠতে পারে, যা ইসরাইলের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইডিএফ-এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে ২,৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এর মধ্যে ইরান ইসরাইল অভিমুখে ৫০০ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ১,৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সাধারণ গণিতে ইরানের হাতে ৭০০-র কম ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথা থাকলেও, আইডিএফ এখন আশঙ্কা করছে যে তারা শুরুতেই ইরানের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কম অনুমান করেছিল। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের জুনেও আইডিএফ তাদের প্রাথমিক অনুমান সংশোধন করে বাড়িয়েছিল।
বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হার প্রতিদিন ২০টির নিচে নেমে এলেও এবং আইডিএফ তাদের সক্ষমতা ৯০ শতাংশ হ্রাসের দাবি করলেও, ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ ও দ্রুত পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। সঠিক পরিসংখ্যানের অভাব এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে লুকিয়ে থাকা অস্ত্রের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করতে না পারা বর্তমান যুদ্ধকৌশল নির্ধারণে ইসরাইলের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের হাতে বর্তমানে কতগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে, তা নিয়ে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) অভ্যন্তরে গভীর অনিশ্চয়তা ও মতভেদ তৈরি হয়েছে। আইডিএফ-এর নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম পোস্ট’-এর কাছে স্বীকার করেছে যে, প্রকৃতপক্ষে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সঠিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কারো কিছু জানা নেই।
সম্প্রতি ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে আইডিএফ বিমান বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, ইরানের কাছে এখনো ১,০০০-এর বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এই তথ্যটি আইডিএফ-এর পূর্বের অনুমানের সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ইরানের হাতে মাত্র কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে। এই পরস্পরবিরোধী তথ্য ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মহলে এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এই অনিশ্চয়তার একটি প্রধান কারণ হলো ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রকৃত অবস্থা। গোয়েন্দা সূত্রমতে, ইরান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে—এমনকি একদিনের কম সময়ের মধ্যে—ধসে পড়া সাইলো বা ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো পুনরুদ্ধার করার সক্ষমতা তৈরি করেছে। ফলে মাটির নিচে চাপা পড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেকোনো সময় পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠতে পারে, যা ইসরাইলের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইডিএফ-এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে ২,৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এর মধ্যে ইরান ইসরাইল অভিমুখে ৫০০ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ১,৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সাধারণ গণিতে ইরানের হাতে ৭০০-র কম ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথা থাকলেও, আইডিএফ এখন আশঙ্কা করছে যে তারা শুরুতেই ইরানের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কম অনুমান করেছিল। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের জুনেও আইডিএফ তাদের প্রাথমিক অনুমান সংশোধন করে বাড়িয়েছিল।
বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হার প্রতিদিন ২০টির নিচে নেমে এলেও এবং আইডিএফ তাদের সক্ষমতা ৯০ শতাংশ হ্রাসের দাবি করলেও, ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ ও দ্রুত পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। সঠিক পরিসংখ্যানের অভাব এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে লুকিয়ে থাকা অস্ত্রের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করতে না পারা বর্তমান যুদ্ধকৌশল নির্ধারণে ইসরাইলের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন