ঢাকা নিউজ

চাঁদের উল্টো পিঠে ৪০ মিনিট: পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে আর্টেমিস নভোচারীরা



চাঁদের উল্টো পিঠে ৪০ মিনিট: পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে আর্টেমিস নভোচারীরা
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ জয়ের অভিযানে এক রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আর্টেমিস মিশনের চার নভোচারী। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের একপর্যায়ে পৃথিবী থেকে দীর্ঘ ৪০ মিনিটের জন্য সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে তাদের মহাকাশযান। এই সময়টিতে মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে রেডিও বা লেজার—কোনো মাধ্যমেই যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না।

স্থানীয় সময় রাত ১১:৪৭ মিনিটে আর্টেমিস মহাকাশযানটি যখন চাঁদের উল্টো পিঠে (ফার সাইড) প্রবেশ করবে, তখন বিশাল এই উপগ্রহটি পৃথিবী ও মহাকাশযানের মাঝখানে প্রতিবন্ধক হিসেবে দাঁড়াবে। ফলে গভীর মহাকাশের নিস্তব্ধতায় টানা ৪০ মিনিট চার নভোচারীকে সম্পূর্ণ একাকী কাটাতে হবে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এই সময়টিকে কেবল প্রযুক্তিগত বিচ্ছিন্নতা হিসেবে না দেখে মানবিক ঐক্যের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্ববাসীকে এই বিশেষ মুহূর্তে তাদের জন্য প্রার্থনা ও ইতিবাচক চিন্তা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা সফলভাবে পুনরায় পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ৫০ বছর আগে অ্যাপোলো ১১ মিশনের সময় মাইকেল কলিন্সও একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। চাঁদের উল্টো পিঠে থাকাকালীন তিনি ৪৮ মিনিট পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। কলিন্স তার আত্মজীবনীতে সেই সময়টিকে ভয়ংকর না বলে বরং এক অদ্ভুত ‘প্রশান্তির’ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। আর্টেমিস মিশনের এই ৪০ মিনিট মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে মানুষের সাহস ও একাকীত্বের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


চাঁদের উল্টো পিঠে ৪০ মিনিট: পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে আর্টেমিস নভোচারীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মহাকাশ জয়ের অভিযানে এক রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আর্টেমিস মিশনের চার নভোচারী। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের একপর্যায়ে পৃথিবী থেকে দীর্ঘ ৪০ মিনিটের জন্য সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে তাদের মহাকাশযান। এই সময়টিতে মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে রেডিও বা লেজার—কোনো মাধ্যমেই যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না।

স্থানীয় সময় রাত ১১:৪৭ মিনিটে আর্টেমিস মহাকাশযানটি যখন চাঁদের উল্টো পিঠে (ফার সাইড) প্রবেশ করবে, তখন বিশাল এই উপগ্রহটি পৃথিবী ও মহাকাশযানের মাঝখানে প্রতিবন্ধক হিসেবে দাঁড়াবে। ফলে গভীর মহাকাশের নিস্তব্ধতায় টানা ৪০ মিনিট চার নভোচারীকে সম্পূর্ণ একাকী কাটাতে হবে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এই সময়টিকে কেবল প্রযুক্তিগত বিচ্ছিন্নতা হিসেবে না দেখে মানবিক ঐক্যের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্ববাসীকে এই বিশেষ মুহূর্তে তাদের জন্য প্রার্থনা ও ইতিবাচক চিন্তা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা সফলভাবে পুনরায় পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ৫০ বছর আগে অ্যাপোলো ১১ মিশনের সময় মাইকেল কলিন্সও একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। চাঁদের উল্টো পিঠে থাকাকালীন তিনি ৪৮ মিনিট পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। কলিন্স তার আত্মজীবনীতে সেই সময়টিকে ভয়ংকর না বলে বরং এক অদ্ভুত ‘প্রশান্তির’ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। আর্টেমিস মিশনের এই ৪০ মিনিট মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে মানুষের সাহস ও একাকীত্বের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ