ঢাকা নিউজ

ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে ইসরাইলের বিধ্বংসী হামলা; নিহত আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান



ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে ইসরাইলের বিধ্বংসী হামলা; নিহত আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী মোড় নিয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) পারস্য উপসাগরের তলদেশে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র ‘সাউথ পারস’-এর একটি প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে স্মরণকালের ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের অর্ধেক জোগান দেওয়া এই স্থাপনাটিতে অত্যন্ত শক্তিশালী আঘাত হানা হয়েছে।

শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব নিহতের দাবি: হামলার ভয়াবহতা কেবল অবকাঠামো ধ্বংসেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানে চালানো পৃথক এক হামলায় ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। এছাড়াও কুদস ফোর্সের আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরিকেও হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। রাজধানী তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন এলাকায় হামলার পর আজাদি স্কয়ারের ওপর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং যুদ্ধবিমানের প্রচণ্ড গর্জন শোনা গেছে।

ইরানের পাল্টা আঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনা: এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও ইসরাইলের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। উত্তর ইসরাইলের হাইফা শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি দেখে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং ইরানের ছোড়া বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: হোয়াইট হাউস থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না এলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতাকারীরা তৎপরতা শুরু করেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, ইরান যদি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র পুরো গ্যাসক্ষেত্রটি ‘বিস্ফোরিত করে উড়িয়ে দেবে’।

সব মিলিয়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিহতের ঘটনা কেবল ইরান বা ইসরাইল নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক চরম অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার ফলে যুদ্ধবিরতির যে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে ইসরাইলের বিধ্বংসী হামলা; নিহত আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী মোড় নিয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) পারস্য উপসাগরের তলদেশে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র ‘সাউথ পারস’-এর একটি প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে স্মরণকালের ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের অর্ধেক জোগান দেওয়া এই স্থাপনাটিতে অত্যন্ত শক্তিশালী আঘাত হানা হয়েছে।

শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব নিহতের দাবি: হামলার ভয়াবহতা কেবল অবকাঠামো ধ্বংসেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানে চালানো পৃথক এক হামলায় ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। এছাড়াও কুদস ফোর্সের আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধান আসগর বাকেরিকেও হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। রাজধানী তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন এলাকায় হামলার পর আজাদি স্কয়ারের ওপর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং যুদ্ধবিমানের প্রচণ্ড গর্জন শোনা গেছে।

ইরানের পাল্টা আঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনা: এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও ইসরাইলের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। উত্তর ইসরাইলের হাইফা শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি দেখে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং ইরানের ছোড়া বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: হোয়াইট হাউস থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না এলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতাকারীরা তৎপরতা শুরু করেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, ইরান যদি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র পুরো গ্যাসক্ষেত্রটি ‘বিস্ফোরিত করে উড়িয়ে দেবে’।

সব মিলিয়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিহতের ঘটনা কেবল ইরান বা ইসরাইল নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক চরম অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার ফলে যুদ্ধবিরতির যে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ