বিশ্ব রাজনীতিতে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়া—এই তিনটি প্রধান শক্তির দাপট থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এক নতুন সমীকরণ সামনে এসেছে। প্রথাগত সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তিতে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে 'চতুর্থ বৈশ্বিক শক্তি' হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে ইরান। সোমবার (৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ: বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সংঘাতের জেরে ইরান এই রুটে আংশিক সামরিক অবরোধ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে এই পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে না; বরং মাঝেমধ্যে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মাধ্যমেই তারা বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। ইতিমধ্যে নিরাপত্তার অভাবে এই রুটে জাহাজ চলাচল ৯০ শতাংশ কমে গেছে এবং বিমা খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক নির্ভরশীলতা: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতি কেবল তেলের ওপর নয়, বরং এর 'নির্ভরযোগ্য সরবরাহের' ওপর টিকে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রতিটি জাহাজ পাহারা দেওয়া যেমন ব্যয়বহুল ও কঠিন, তেমনি ইরানের জন্য সামান্য আক্রমণ চালিয়ে পুরো ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলা অনেক সহজ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ স্বীকার করেছেন যে, শক্তি প্রয়োগ করে এই পথ খোলা রাখা সম্ভব নয়; এটি কেবল ইরানের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমেই সম্ভব।
জ্বালানি জোট ও নতুন বিশ্বব্যবস্থা: জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো জ্বালানির জন্য এই অঞ্চলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যদি ইরান (২০%), রাশিয়া (১১%) এবং চীন মিলে একটি জ্বালানি জোট তৈরি করে, তবে তারা বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করবে। এর ফলে পশ্চিমা বিশ্বের ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পাবে এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এই জোটের দিকে ঝুঁকে পড়বে।
উপসংহার: যুক্তরাষ্ট্র এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। হয় তাদের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে, নয়তো ইরানকে একটি বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে মেনে নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং এটি বিশ্বব্যবস্থাকে চিরতরে বদলে দেওয়ার এক রূপান্তরমূলক অধ্যায়। ইরানের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে এখন সমগ্র বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন করে লিখতে বাধ্য করছে।

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্ব রাজনীতিতে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়া—এই তিনটি প্রধান শক্তির দাপট থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এক নতুন সমীকরণ সামনে এসেছে। প্রথাগত সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তিতে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে 'চতুর্থ বৈশ্বিক শক্তি' হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে ইরান। সোমবার (৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ: বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সংঘাতের জেরে ইরান এই রুটে আংশিক সামরিক অবরোধ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে এই পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে না; বরং মাঝেমধ্যে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মাধ্যমেই তারা বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। ইতিমধ্যে নিরাপত্তার অভাবে এই রুটে জাহাজ চলাচল ৯০ শতাংশ কমে গেছে এবং বিমা খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক নির্ভরশীলতা: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতি কেবল তেলের ওপর নয়, বরং এর 'নির্ভরযোগ্য সরবরাহের' ওপর টিকে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রতিটি জাহাজ পাহারা দেওয়া যেমন ব্যয়বহুল ও কঠিন, তেমনি ইরানের জন্য সামান্য আক্রমণ চালিয়ে পুরো ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলা অনেক সহজ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ স্বীকার করেছেন যে, শক্তি প্রয়োগ করে এই পথ খোলা রাখা সম্ভব নয়; এটি কেবল ইরানের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমেই সম্ভব।
জ্বালানি জোট ও নতুন বিশ্বব্যবস্থা: জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো জ্বালানির জন্য এই অঞ্চলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যদি ইরান (২০%), রাশিয়া (১১%) এবং চীন মিলে একটি জ্বালানি জোট তৈরি করে, তবে তারা বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করবে। এর ফলে পশ্চিমা বিশ্বের ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পাবে এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এই জোটের দিকে ঝুঁকে পড়বে।
উপসংহার: যুক্তরাষ্ট্র এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। হয় তাদের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে, নয়তো ইরানকে একটি বৈশ্বিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে মেনে নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং এটি বিশ্বব্যবস্থাকে চিরতরে বদলে দেওয়ার এক রূপান্তরমূলক অধ্যায়। ইরানের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে এখন সমগ্র বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন করে লিখতে বাধ্য করছে।

আপনার মতামত লিখুন