ঢাকা নিউজ

ঘুস না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে এসআইয়ের লাথি ও বাদীর ওপর বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ



ঘুস না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে এসআইয়ের লাথি ও বাদীর ওপর বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের দাবিকৃত ঘুস না দেওয়ায় এক মামলার বাদীকে তুলে নিয়ে মারধর এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। গত বুধবার ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রফিক এই ঘটনার প্রতিকার ও বিচার চেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের মধ্যম চর পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকের সঙ্গে স্থানীয় আবু তাহের গংদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গত ৩ এপ্রিল প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিক ৯৯৯-এ কল দেন। এরপর এসআই ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং রফিকের কাছ থেকে খরচের কথা বলে ৩ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে বিরোধটি মিমাংসার কথা বলে ওই কর্মকর্তা ১ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন।

ভুক্তভোগী রফিকের দাবি, ঘুসের টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় এসআই ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ নেন। গত ৭ এপ্রিল সকালে এসআই ফারুকের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিকের পরিবার বাধা দেয়। এ সময় এসআই ফারুক নিজেই রফিকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিফা জন্নাতকে পেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন। এছাড়া রফিকের স্ত্রী ও বোনকেও মারধর করা হয়, যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আক্রান্ত রফিক আরও জানান, তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। পরে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে তিনটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্তঃসত্ত্বা শিফা জন্নাত অভিযোগ করেছেন, ভাসুরকে ধরে নেওয়ার কারণ জানতে চাওয়ায় এসআই ফারুক তার তলপেটে সজোরে লাথি মারেন।

অভিযুক্ত এসআই ফারুক হোসেন ঘুস চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও রাগের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রফিক আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ দেখাতে না পারায় অন্যপক্ষকে ঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিমেল হাসান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজিদুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬


ঘুস না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে এসআইয়ের লাথি ও বাদীর ওপর বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের দাবিকৃত ঘুস না দেওয়ায় এক মামলার বাদীকে তুলে নিয়ে মারধর এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। গত বুধবার ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রফিক এই ঘটনার প্রতিকার ও বিচার চেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের মধ্যম চর পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকের সঙ্গে স্থানীয় আবু তাহের গংদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গত ৩ এপ্রিল প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিক ৯৯৯-এ কল দেন। এরপর এসআই ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং রফিকের কাছ থেকে খরচের কথা বলে ৩ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে বিরোধটি মিমাংসার কথা বলে ওই কর্মকর্তা ১ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন।

ভুক্তভোগী রফিকের দাবি, ঘুসের টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় এসআই ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ নেন। গত ৭ এপ্রিল সকালে এসআই ফারুকের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিকের পরিবার বাধা দেয়। এ সময় এসআই ফারুক নিজেই রফিকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিফা জন্নাতকে পেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন। এছাড়া রফিকের স্ত্রী ও বোনকেও মারধর করা হয়, যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আক্রান্ত রফিক আরও জানান, তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। পরে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে তিনটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্তঃসত্ত্বা শিফা জন্নাত অভিযোগ করেছেন, ভাসুরকে ধরে নেওয়ার কারণ জানতে চাওয়ায় এসআই ফারুক তার তলপেটে সজোরে লাথি মারেন।

অভিযুক্ত এসআই ফারুক হোসেন ঘুস চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও রাগের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রফিক আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ দেখাতে না পারায় অন্যপক্ষকে ঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিমেল হাসান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজিদুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ