ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও হুমকি-ধমকি সত্ত্বেও এক অস্পষ্ট ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সবচেয়ে বড় পরাজিত পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসকে উপেক্ষা করে ইরানে শাসন পরিবর্তনের যে অবাস্তব লক্ষ্য নেতানিয়াহু নির্ধারণ করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এমনকি যুদ্ধবিরতি ঠেকাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও, শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প ইসরাইলকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে সমঝোতায় পৌঁছান।
ইসরাইলের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই ঘটনাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসরাইল আলোচনার টেবিলে পর্যন্ত ছিল না। তিনি নেতানিয়াহুর অহংকার ও পরিকল্পনাহীনতাকে এই কৌশলগত ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেন। একইভাবে বামপন্থি ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা ইয়ার গোলানও একে চরম ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেছেন, যার ফলে ইসরাইলের নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এক মাসব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা সত্ত্বেও ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন বা ইউরেনিয়ামের মজুদ দখলের মতো কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। উল্টো এই পরিস্থিতি থেকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষজ্ঞদের মতামত তোয়াক্কা না করে নেওয়া হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে নেতানিয়াহুর 'চূড়ান্ত বিজয়'-এর বুলি কেবল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি হিসেবেই প্রমাণিত হলো।
আসন্ন নির্বাচনের বছরে এই ব্যর্থতা নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পর এখন ইরানের ক্ষেত্রেও পরাজয় আসায় তার রাজনৈতিক উপযোগিতা নিয়ে খোদ ইসরাইলি জনগণের মধ্যেই বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নস্যাৎ করতে নেতানিয়াহু এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও হুমকি-ধমকি সত্ত্বেও এক অস্পষ্ট ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সবচেয়ে বড় পরাজিত পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসকে উপেক্ষা করে ইরানে শাসন পরিবর্তনের যে অবাস্তব লক্ষ্য নেতানিয়াহু নির্ধারণ করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এমনকি যুদ্ধবিরতি ঠেকাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও, শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প ইসরাইলকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে সমঝোতায় পৌঁছান।
ইসরাইলের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই ঘটনাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসরাইল আলোচনার টেবিলে পর্যন্ত ছিল না। তিনি নেতানিয়াহুর অহংকার ও পরিকল্পনাহীনতাকে এই কৌশলগত ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেন। একইভাবে বামপন্থি ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা ইয়ার গোলানও একে চরম ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেছেন, যার ফলে ইসরাইলের নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এক মাসব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা সত্ত্বেও ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন বা ইউরেনিয়ামের মজুদ দখলের মতো কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। উল্টো এই পরিস্থিতি থেকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষজ্ঞদের মতামত তোয়াক্কা না করে নেওয়া হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে নেতানিয়াহুর 'চূড়ান্ত বিজয়'-এর বুলি কেবল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি হিসেবেই প্রমাণিত হলো।
আসন্ন নির্বাচনের বছরে এই ব্যর্থতা নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পর এখন ইরানের ক্ষেত্রেও পরাজয় আসায় তার রাজনৈতিক উপযোগিতা নিয়ে খোদ ইসরাইলি জনগণের মধ্যেই বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নস্যাৎ করতে নেতানিয়াহু এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন