ঢাকা নিউজ

তেল শুধু সংসদেই আছে, সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েও পাচ্ছে না: ডা. শফিকুর রহমান



তেল শুধু সংসদেই আছে, সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েও পাচ্ছে না: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি: সংগ্রহীত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, দেশে তেলের অস্তিত্ব এখন কেবল সংসদেই সীমাবদ্ধ। শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (কেআইবি) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি মন্তব্য করেন যে, সংসদে সরকারি দলের মন্ত্রী ও সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে, অথচ বাস্তব চিত্র হলো সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না।

সেমিনারে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘গোঁজামিল’ ও ‘টপ-ড্রেসিং’-এর সঙ্গে তুলনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতসহ সর্বত্রই কেবল খাতায়-কলমে লাভ দেখানো হচ্ছে, যেখানে বাস্তবে অর্থের অস্তিত্ব নেই। তিনি সমাজকে মেধাভিত্তিক (মেরিটোক্রেটিক) করার ওপর জোর দিয়ে রাজনীতিভিত্তিক (পলিটোক্রেটিক) সমাজ ব্যবস্থার অবসান চান। এছাড়া কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের মতো মেধাবী সংগঠনে জোরপূর্বক নেতৃত্ব দখলের রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি এই ‘ব্যাড কালচার’ বা অপসংস্কৃতির সমাপ্তি দাবি করেন।

কৃষি খাতের বর্তমান সংকটকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকরা ঠিকমতো সেচ দিতে পারছেন না, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তিনি সরকারকে ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোনো বিদেশি ঋণ জাতিকে সোজা হয়ে দাঁড় করাতে পারবে না যদি কৃষি ধ্বংস হয়ে যায়। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিনি সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক বা মজুত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সোলার এনার্জি বা বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে। যদি বর্তমান সরকার পুনরায় সিন্ডিকেট ও ফ্যাসিজমের পথে হাঁটে, তবে রাজপথে কঠোর বাধার সম্মুখীন হতে হবে। এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ আয়োজিত এই সেমিনারে জানানো হয় যে, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটের ফলে চলমান বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


তেল শুধু সংসদেই আছে, সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েও পাচ্ছে না: ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, দেশে তেলের অস্তিত্ব এখন কেবল সংসদেই সীমাবদ্ধ। শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (কেআইবি) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি মন্তব্য করেন যে, সংসদে সরকারি দলের মন্ত্রী ও সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে, অথচ বাস্তব চিত্র হলো সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না।

সেমিনারে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘গোঁজামিল’ ও ‘টপ-ড্রেসিং’-এর সঙ্গে তুলনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতসহ সর্বত্রই কেবল খাতায়-কলমে লাভ দেখানো হচ্ছে, যেখানে বাস্তবে অর্থের অস্তিত্ব নেই। তিনি সমাজকে মেধাভিত্তিক (মেরিটোক্রেটিক) করার ওপর জোর দিয়ে রাজনীতিভিত্তিক (পলিটোক্রেটিক) সমাজ ব্যবস্থার অবসান চান। এছাড়া কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের মতো মেধাবী সংগঠনে জোরপূর্বক নেতৃত্ব দখলের রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি এই ‘ব্যাড কালচার’ বা অপসংস্কৃতির সমাপ্তি দাবি করেন।

কৃষি খাতের বর্তমান সংকটকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকরা ঠিকমতো সেচ দিতে পারছেন না, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তিনি সরকারকে ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোনো বিদেশি ঋণ জাতিকে সোজা হয়ে দাঁড় করাতে পারবে না যদি কৃষি ধ্বংস হয়ে যায়। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিনি সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক বা মজুত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সোলার এনার্জি বা বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে। যদি বর্তমান সরকার পুনরায় সিন্ডিকেট ও ফ্যাসিজমের পথে হাঁটে, তবে রাজপথে কঠোর বাধার সম্মুখীন হতে হবে। এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ আয়োজিত এই সেমিনারে জানানো হয় যে, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটের ফলে চলমান বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ