টানা ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা। চরম অবিশ্বাস ও উত্তেজনার মাঝে শনিবার সন্ধ্যায় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে মূলত সাতটি প্রধান বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রথমত, ইরান লেবাননে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি দাবি করেছে। মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় সেখানে হিজবুল্লাহর প্রায় ২ হাজার সদস্য নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান একে শান্তি চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে। দ্বিতীয়ত, ইরান তার অর্থনীতিকে সচল করতে বিদেশের ব্যাংকে আটকে থাকা সম্পদ ছাড় এবং সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়। বিপরীতে, ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক ও মিসাইল কর্মসূচিতে বড় ধরনের ছাড় দাবি করছে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো বিশ্ব অর্থনীতির ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালি’। ইরান এই প্রণালির ওপর তাদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব ও ট্রানজিট ফি আদায়ের অধিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চায় কোনো ধরনের টোল বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এই পথটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকুক। চতুর্থত, বিগত ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা। তেহরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাইলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে কোনো আপস করতে রাজি নন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্মিলিতভাবে ইরানের মিসাইল সক্ষমতা কমিয়ে আনার শর্ত দিলেও তেহরান তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। সবশেষে, ইরান মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না চালানোর প্রতিশ্রুতি চেয়েছে, যেখানে ট্রাম্প শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে অনড়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কিছু বিষয়ে অগ্রগতির আভাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ছাড় দিতে ওয়াশিংটন নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা, যা বিশ্বকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে ফেরাতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনো বিশ্বজুড়ে গভীর কৌতূহল বিরাজ করছে।

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
টানা ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা। চরম অবিশ্বাস ও উত্তেজনার মাঝে শনিবার সন্ধ্যায় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে মূলত সাতটি প্রধান বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রথমত, ইরান লেবাননে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি দাবি করেছে। মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় সেখানে হিজবুল্লাহর প্রায় ২ হাজার সদস্য নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান একে শান্তি চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে। দ্বিতীয়ত, ইরান তার অর্থনীতিকে সচল করতে বিদেশের ব্যাংকে আটকে থাকা সম্পদ ছাড় এবং সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়। বিপরীতে, ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক ও মিসাইল কর্মসূচিতে বড় ধরনের ছাড় দাবি করছে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো বিশ্ব অর্থনীতির ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালি’। ইরান এই প্রণালির ওপর তাদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব ও ট্রানজিট ফি আদায়ের অধিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চায় কোনো ধরনের টোল বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এই পথটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকুক। চতুর্থত, বিগত ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা। তেহরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাইলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে কোনো আপস করতে রাজি নন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্মিলিতভাবে ইরানের মিসাইল সক্ষমতা কমিয়ে আনার শর্ত দিলেও তেহরান তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। সবশেষে, ইরান মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না চালানোর প্রতিশ্রুতি চেয়েছে, যেখানে ট্রাম্প শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে অনড়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কিছু বিষয়ে অগ্রগতির আভাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ছাড় দিতে ওয়াশিংটন নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা, যা বিশ্বকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে ফেরাতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনো বিশ্বজুড়ে গভীর কৌতূহল বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন