মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চার দফা শান্তি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। জাতিসংঘ ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী পদক্ষেপের ফলে অঞ্চলজুড়ে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবগুলো সামনে আনা হলো।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংয়ের দেওয়া তথ্যমতে, শি জিনপিংয়ের প্রথম প্রস্তাবটি হলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং একটি টেকসই ও সমন্বিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রতিটি দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তৃতীয় প্রস্তাবে শি জিনপিং জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সনদের নীতিগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেন। চতুর্থ ও শেষ প্রস্তাবে তিনি উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষার কথা বলেন। বেইজিং মনে করে, নিরাপত্তা হচ্ছে উন্নয়নের ভিত্তি এবং উন্নয়নই নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করে; আর এই লক্ষ্যে চীন উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
কূটনৈতিক এই প্রস্তাবের মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে চীনের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, 'রিচ স্ট্যারি' নামক একটি চীনা তেলবাহী জাহাজ মার্কিন নৌ অবরোধ উপেক্ষা করে প্রথমবারের মতো উপসাগর ত্যাগ করেছে। সাংহাইভিত্তিক এই জাহাজটি এর আগে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল। এছাড়া 'মুরলিকিশান' নামের আরও একটি জাহাজ বর্তমানে ইরাক থেকে তেল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রণালিতে প্রবেশ করছে।
বর্তমানে চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে পরিচিত এবং দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই বেইজিং আমদানি করে। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, গত বছর চীন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল ক্রয় করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল পরিস্থিতিতে চীনের উত্থাপিত চার দফা প্রস্তাব কূটনৈতিক সমাধানের নতুন পথ দেখালেও বাস্তব পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চার দফা শান্তি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। জাতিসংঘ ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী পদক্ষেপের ফলে অঞ্চলজুড়ে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবগুলো সামনে আনা হলো।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিংয়ের দেওয়া তথ্যমতে, শি জিনপিংয়ের প্রথম প্রস্তাবটি হলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং একটি টেকসই ও সমন্বিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রতিটি দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তৃতীয় প্রস্তাবে শি জিনপিং জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সনদের নীতিগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেন। চতুর্থ ও শেষ প্রস্তাবে তিনি উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষার কথা বলেন। বেইজিং মনে করে, নিরাপত্তা হচ্ছে উন্নয়নের ভিত্তি এবং উন্নয়নই নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করে; আর এই লক্ষ্যে চীন উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
কূটনৈতিক এই প্রস্তাবের মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে চীনের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, 'রিচ স্ট্যারি' নামক একটি চীনা তেলবাহী জাহাজ মার্কিন নৌ অবরোধ উপেক্ষা করে প্রথমবারের মতো উপসাগর ত্যাগ করেছে। সাংহাইভিত্তিক এই জাহাজটি এর আগে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল। এছাড়া 'মুরলিকিশান' নামের আরও একটি জাহাজ বর্তমানে ইরাক থেকে তেল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রণালিতে প্রবেশ করছে।
বর্তমানে চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে পরিচিত এবং দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই বেইজিং আমদানি করে। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, গত বছর চীন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল ক্রয় করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল পরিস্থিতিতে চীনের উত্থাপিত চার দফা প্রস্তাব কূটনৈতিক সমাধানের নতুন পথ দেখালেও বাস্তব পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন