ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই আলোচনা শুরুর আগে তেহরানকে দুটি বিশেষ শর্ত দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী দুই দিনের মধ্যে আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও এই শর্তগুলোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে তার প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রথম শর্ত: ওয়াশিংটন চায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ও বাধাহীনভাবে খুলে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এখানে ‘পারস্পরিকতা’ নীতি অনুসরণ করার ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ, ইরান যদি এই প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেয়, তবে মার্কিন নৌবাহিনীও ইরানের নিজস্ব জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া দ্বিতীয় শর্ত: সংলাপে অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পূর্ণ অনুমোদন নিয়ে আসতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করতে চায় যে, ইসলামাবাদে কোনো সমঝোতা হলে তাতে যেন ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের শতভাগ সম্মতি থাকে, যাতে পরবর্তীকালে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিতর্ক না ওঠে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ১৪ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে। ট্রাম্পের দাবি, উপযুক্ত ব্যক্তিরা সমঝোতার জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। যদিও ইরান এখন পর্যন্ত এই শর্তগুলোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাকেও নাকচ করে দিয়েছে। তেহরান বারবারই বলে আসছে, ওয়াশিংটনকে তারা আলোচনার টেবিলে বিশ্বাস করে না।
বর্তমানে এই দুই শর্তকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ইরান যদি এই শর্ত মেনে আলোচনায় বসে, তবেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ সুগম হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই আলোচনা শুরুর আগে তেহরানকে দুটি বিশেষ শর্ত দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী দুই দিনের মধ্যে আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও এই শর্তগুলোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে তার প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রথম শর্ত: ওয়াশিংটন চায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ও বাধাহীনভাবে খুলে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এখানে ‘পারস্পরিকতা’ নীতি অনুসরণ করার ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ, ইরান যদি এই প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেয়, তবে মার্কিন নৌবাহিনীও ইরানের নিজস্ব জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া দ্বিতীয় শর্ত: সংলাপে অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পূর্ণ অনুমোদন নিয়ে আসতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করতে চায় যে, ইসলামাবাদে কোনো সমঝোতা হলে তাতে যেন ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের শতভাগ সম্মতি থাকে, যাতে পরবর্তীকালে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিতর্ক না ওঠে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ১৪ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে। ট্রাম্পের দাবি, উপযুক্ত ব্যক্তিরা সমঝোতার জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। যদিও ইরান এখন পর্যন্ত এই শর্তগুলোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাকেও নাকচ করে দিয়েছে। তেহরান বারবারই বলে আসছে, ওয়াশিংটনকে তারা আলোচনার টেবিলে বিশ্বাস করে না।
বর্তমানে এই দুই শর্তকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ইরান যদি এই শর্ত মেনে আলোচনায় বসে, তবেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ সুগম হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন