নোয়াখালীর শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সোনাইমুড়ি—এই পাঁচ উপজেলায় বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নোয়াখালী সদর এবং বেগমগঞ্জ উপজেলাকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় এই দলগুলো গঠিত হচ্ছে এবং পরবর্তীতে প্রতিটি উপজেলায় তাদের নিজস্ব টিম তৈরি করে নেতৃত্ব পরিচালনা করা হচ্ছে।
বাস্তবতা হলো, এসব কিশোরের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত এবং পারিবারিক অনুশাসন ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে দ্রুত অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষ কোথাও কিশোরদের জটলা দেখলেই অজানা আতঙ্কে ভুগছেন এবং প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো বিপাকে পড়ার ভয়ে অনেকেই দেখেও না-দেখার ভান করছেন। পরিবারের কাছে অভিযোগ করেও অনেক সময় প্রতিকার মিলছে না, বরং ভুক্তভোগীদেরই বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, অপরাধে জড়ানো অধিকাংশ কিশোরের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। বর্তমান শিশু আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে গুরুতর অপরাধেও তারা লঘু শাস্তি পাচ্ছে, যা তাদের মধ্যে এক ধরনের ভয়হীনতা তৈরি করছে। এমতাবস্থায় অপরাধী শিশুদের বয়সসীমা পুনর্নির্ধারণ বা আইন সংশোধনের বিষয়টি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসী চক্রগুলো মূলত দারিদ্র্যপীড়িত ও ছিন্নমূল পরিবারের কিশোরদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে দলে ভেড়ায় এবং পরবর্তীতে তাদের মাদক ও অস্ত্রের মতো গুরুতর অপরাধে ব্যবহার করে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ, সামাজিক অবক্ষয়, অপসংস্কৃতির প্রভাব এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বর্তমানে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ মাঝেমধ্যে কিছু সদস্য গ্রেপ্তার হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। সংশোধনাগারে পাঠানো ছাড়া কার্যকর শাস্তির অভাবও এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিশোর গ্যাং দমনে এখন সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভা করার পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। একইসঙ্গে সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে বা কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সজাগ হতে হবে। সময় থাকতে এই ‘কিশোর গ্যাং কালচার’ রুখতে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে না তুললে এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
নোয়াখালীর শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সোনাইমুড়ি—এই পাঁচ উপজেলায় বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নোয়াখালী সদর এবং বেগমগঞ্জ উপজেলাকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় এই দলগুলো গঠিত হচ্ছে এবং পরবর্তীতে প্রতিটি উপজেলায় তাদের নিজস্ব টিম তৈরি করে নেতৃত্ব পরিচালনা করা হচ্ছে।
বাস্তবতা হলো, এসব কিশোরের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত এবং পারিবারিক অনুশাসন ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে দ্রুত অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষ কোথাও কিশোরদের জটলা দেখলেই অজানা আতঙ্কে ভুগছেন এবং প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো বিপাকে পড়ার ভয়ে অনেকেই দেখেও না-দেখার ভান করছেন। পরিবারের কাছে অভিযোগ করেও অনেক সময় প্রতিকার মিলছে না, বরং ভুক্তভোগীদেরই বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, অপরাধে জড়ানো অধিকাংশ কিশোরের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। বর্তমান শিশু আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে গুরুতর অপরাধেও তারা লঘু শাস্তি পাচ্ছে, যা তাদের মধ্যে এক ধরনের ভয়হীনতা তৈরি করছে। এমতাবস্থায় অপরাধী শিশুদের বয়সসীমা পুনর্নির্ধারণ বা আইন সংশোধনের বিষয়টি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসী চক্রগুলো মূলত দারিদ্র্যপীড়িত ও ছিন্নমূল পরিবারের কিশোরদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে দলে ভেড়ায় এবং পরবর্তীতে তাদের মাদক ও অস্ত্রের মতো গুরুতর অপরাধে ব্যবহার করে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত নগরায়ণ, সামাজিক অবক্ষয়, অপসংস্কৃতির প্রভাব এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বর্তমানে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ মাঝেমধ্যে কিছু সদস্য গ্রেপ্তার হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। সংশোধনাগারে পাঠানো ছাড়া কার্যকর শাস্তির অভাবও এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিশোর গ্যাং দমনে এখন সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভা করার পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। একইসঙ্গে সন্তানরা কার সঙ্গে মিশছে বা কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সজাগ হতে হবে। সময় থাকতে এই ‘কিশোর গ্যাং কালচার’ রুখতে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে না তুললে এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন