ঢাকা নিউজ

বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের অনন্য বার্তা দিলেন আজহারী



বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের অনন্য বার্তা দিলেন আজহারী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং ইসলামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেছেন প্রখ্যাত আলেম মিজানুর রহমান আজহারী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি।

আজহারী তার আলোচনায় জানান, বাংলাদেশের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য অত্যন্ত দৃঢ়, তবে মাঝেমধ্যে কিছু অশুভ শক্তি এই ঐক্যে ফাটল ধরার চেষ্টা করে। তিনি এই ধরনের দুর্বৃত্তদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, এ দেশে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে এক ধর্মাবলম্বীরা অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখে এবং এমনকি মন্দিরের নিরাপত্তায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এগিয়ে আসে, যা বিশ্বে বিরল।

পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, অন্য ধর্মের উপাস্যদের গালি দেওয়া বা কোনো ধর্মকে ছোট করা ইসলাম সমর্থন করে না। তার মতে, অন্য ধর্মকে অবমাননা করা মানে ইসলামকেই ছোট করা, যা মানুষকে এই শান্তির ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীলতার যে শিক্ষা দেয়, তার সর্বোত্তম উদাহরণ বিশ্বনবী (সা.)-এর জীবনেই বিদ্যমান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রসঙ্গে আজহারী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অমুসলিম নাগরিকের ওপর জুলুম করা বা সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি তার হিন্দু প্রতিবেশীর অধিকার হরণ করে, তবে কিয়ামতের দিন স্বয়ং বিশ্বনবী (সা.) সেই অত্যাচারী মুসলিমের বিপক্ষে অবস্থান নেবেন। অমুসলিম প্রতিবেশীর বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং অসুস্থ হলে সেবা করাকে তিনি ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য হিসেবে অভিহিত করেন।

ইসলামের উদারতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ধর্ম পরিবর্তন করলেও অমুসলিম মা-বাবার প্রতি সদাচরণ করা সন্তানের জন্য বাধ্যতামূলক। বিশ্বনবী (সা.) নিজেও অমুসলিমদের উপহার গ্রহণ করেছেন এবং তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছেন। পরিশেষে তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, অমুসলিম মানেই শত্রু নয় এবং ভালোবাসা দিয়েই পৃথিবী জয় করা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬


বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের অনন্য বার্তা দিলেন আজহারী

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং ইসলামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেছেন প্রখ্যাত আলেম মিজানুর রহমান আজহারী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি।

আজহারী তার আলোচনায় জানান, বাংলাদেশের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য অত্যন্ত দৃঢ়, তবে মাঝেমধ্যে কিছু অশুভ শক্তি এই ঐক্যে ফাটল ধরার চেষ্টা করে। তিনি এই ধরনের দুর্বৃত্তদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, এ দেশে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে এক ধর্মাবলম্বীরা অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখে এবং এমনকি মন্দিরের নিরাপত্তায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এগিয়ে আসে, যা বিশ্বে বিরল।

পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, অন্য ধর্মের উপাস্যদের গালি দেওয়া বা কোনো ধর্মকে ছোট করা ইসলাম সমর্থন করে না। তার মতে, অন্য ধর্মকে অবমাননা করা মানে ইসলামকেই ছোট করা, যা মানুষকে এই শান্তির ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীলতার যে শিক্ষা দেয়, তার সর্বোত্তম উদাহরণ বিশ্বনবী (সা.)-এর জীবনেই বিদ্যমান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রসঙ্গে আজহারী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অমুসলিম নাগরিকের ওপর জুলুম করা বা সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি তার হিন্দু প্রতিবেশীর অধিকার হরণ করে, তবে কিয়ামতের দিন স্বয়ং বিশ্বনবী (সা.) সেই অত্যাচারী মুসলিমের বিপক্ষে অবস্থান নেবেন। অমুসলিম প্রতিবেশীর বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং অসুস্থ হলে সেবা করাকে তিনি ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য হিসেবে অভিহিত করেন।

ইসলামের উদারতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ধর্ম পরিবর্তন করলেও অমুসলিম মা-বাবার প্রতি সদাচরণ করা সন্তানের জন্য বাধ্যতামূলক। বিশ্বনবী (সা.) নিজেও অমুসলিমদের উপহার গ্রহণ করেছেন এবং তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছেন। পরিশেষে তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, অমুসলিম মানেই শত্রু নয় এবং ভালোবাসা দিয়েই পৃথিবী জয় করা সম্ভব।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ