ঢাকা নিউজ

বিশ্বজুড়ে ইরানের জব্দ থাকা সম্পদের পরিমাণ ও ক্ষতিপূরণ দাবির বিস্তারিত



বিশ্বজুড়ে ইরানের জব্দ থাকা সম্পদের পরিমাণ ও ক্ষতিপূরণ দাবির বিস্তারিত
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে নিজেদের জব্দ হওয়া সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। এই লক্ষ্যে গত ১৪ এপ্রিল জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতিমা মাহাজিরানির দেওয়া তথ্যমতে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার, যা ভবন, অবকাঠামো এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকার ফলে সৃষ্ট আর্থিক লোকসানকে অন্তর্ভুক্ত করে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের নির্দেশে প্রথমবার ইরানের প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়। এরপর থেকে গত ৪৭ বছর ধরে বিভিন্ন প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি ও রাজনৈতিক চাপে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেলের রাজস্ব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এবং বাণিজ্যিক সম্পদ আটকে রাখা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বের বড় বড় ব্যাংক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের সাথে আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হয়।

ইরানের জব্দ থাকা মোট সম্পদের কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব সামনে এসেছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলার বললেও পরে তা কমিয়ে ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনেন। অন্যদিকে, ওই সময়ে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল যে তাদের জব্দ থাকা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশই ছিল জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতে।

সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৩ সালে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ইরানের ৬ বিলিয়ন ডলার তেলের রাজস্ব কাতারের নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে হস্তান্তরের অনুমতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় কাতারকে নির্দেশ দিয়ে সেই অর্থ ব্যবহারে ইরানের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়। ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন যে, এই জব্দ থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া একটি অনমনীয় শর্ত এবং এটি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো বড় অগ্রগতি সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


বিশ্বজুড়ে ইরানের জব্দ থাকা সম্পদের পরিমাণ ও ক্ষতিপূরণ দাবির বিস্তারিত

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে নিজেদের জব্দ হওয়া সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। এই লক্ষ্যে গত ১৪ এপ্রিল জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতিমা মাহাজিরানির দেওয়া তথ্যমতে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার, যা ভবন, অবকাঠামো এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকার ফলে সৃষ্ট আর্থিক লোকসানকে অন্তর্ভুক্ত করে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের নির্দেশে প্রথমবার ইরানের প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়। এরপর থেকে গত ৪৭ বছর ধরে বিভিন্ন প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি ও রাজনৈতিক চাপে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেলের রাজস্ব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এবং বাণিজ্যিক সম্পদ আটকে রাখা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বের বড় বড় ব্যাংক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের সাথে আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হয়।

ইরানের জব্দ থাকা মোট সম্পদের কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব সামনে এসেছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলার বললেও পরে তা কমিয়ে ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনেন। অন্যদিকে, ওই সময়ে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল যে তাদের জব্দ থাকা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশই ছিল জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতে।

সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৩ সালে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ইরানের ৬ বিলিয়ন ডলার তেলের রাজস্ব কাতারের নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে হস্তান্তরের অনুমতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় কাতারকে নির্দেশ দিয়ে সেই অর্থ ব্যবহারে ইরানের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়। ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন যে, এই জব্দ থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া একটি অনমনীয় শর্ত এবং এটি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো বড় অগ্রগতি সম্ভব নয়।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ