ঢাকা নিউজ

হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা দাবির অভিযোগ



হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা দাবির অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। বুধবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার একাধিক বৈঠক রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাশেদ খানের দাবি, এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ৪ কোটি টাকার একটি সমঝোতার আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ আব্দুল গাফফার জিসানকে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১ কোটি টাকা দিতে চান, তবে ৩ কোটি টাকায় চুক্তি করার চেষ্টা করতে হবে। ওই নেতাদের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে এবং অর্থের প্রয়োজন আছে বলেও হান্নান মাসউদ মন্তব্য করেছিলেন বলে পোস্টে জানানো হয়।

পোস্টে রাশেদ খান বলেন, হান্নান মাসউদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হাতিয়ার বাসিন্দা আব্দুল গাফফার জিসান, যিনি গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে তার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। ২৭ জুলাইয়ের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও জিসানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং জিসান বিভিন্ন সময় সমন্বয়কদের ছবি ও ভিডিও ধারণের কাজও করতেন। তবে হান্নান মাসউদের অর্থের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে তিনি দূরে সরে যান।

ফেসবুক পোস্টে নোয়াখালীর হাতিয়া আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তার দাবি, হান্নান মাসউদ মনে করতেন মোহাম্মদ আলী তার রাজনৈতিক পথে প্রধান বাধা এবং এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে তাকে গ্রেফতারে ভূমিকা রাখা হয়েছে।

রাশেদ খান আরও দাবি করেন, ব্যক্তিগত আলোচনায় হান্নান মাসউদ বলেছেন যে নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব নেই, কেবল মোহাম্মদ আলীর সঙ্গেই বিরোধ রয়েছে। একই সঙ্গে নোয়াখালীর রাজনীতিতে প্রভাবশালী হতে হলে মোহাম্মদ আলীর মতো অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বিভিন্ন আলোচনায় তুলে ধরতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা দাবির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। বুধবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার একাধিক বৈঠক রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাশেদ খানের দাবি, এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ৪ কোটি টাকার একটি সমঝোতার আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ আব্দুল গাফফার জিসানকে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ১ কোটি টাকা দিতে চান, তবে ৩ কোটি টাকায় চুক্তি করার চেষ্টা করতে হবে। ওই নেতাদের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে এবং অর্থের প্রয়োজন আছে বলেও হান্নান মাসউদ মন্তব্য করেছিলেন বলে পোস্টে জানানো হয়।

পোস্টে রাশেদ খান বলেন, হান্নান মাসউদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হাতিয়ার বাসিন্দা আব্দুল গাফফার জিসান, যিনি গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে তার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। ২৭ জুলাইয়ের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও জিসানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং জিসান বিভিন্ন সময় সমন্বয়কদের ছবি ও ভিডিও ধারণের কাজও করতেন। তবে হান্নান মাসউদের অর্থের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ ও আচরণগত পরিবর্তনের কারণে পরবর্তীতে তিনি দূরে সরে যান।

ফেসবুক পোস্টে নোয়াখালীর হাতিয়া আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তার দাবি, হান্নান মাসউদ মনে করতেন মোহাম্মদ আলী তার রাজনৈতিক পথে প্রধান বাধা এবং এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে তাকে গ্রেফতারে ভূমিকা রাখা হয়েছে।

রাশেদ খান আরও দাবি করেন, ব্যক্তিগত আলোচনায় হান্নান মাসউদ বলেছেন যে নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব নেই, কেবল মোহাম্মদ আলীর সঙ্গেই বিরোধ রয়েছে। একই সঙ্গে নোয়াখালীর রাজনীতিতে প্রভাবশালী হতে হলে মোহাম্মদ আলীর মতো অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বিভিন্ন আলোচনায় তুলে ধরতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ