ঢাকা নিউজ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্থবির: ২৪ ঘণ্টায় পার হলো মাত্র ৫টি যান



হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্থবির: ২৪ ঘণ্টায় পার হলো মাত্র ৫টি যান
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির আবহে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সর্বশেষ শিপিং ডাটা অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর আগে এই পথ দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ যাতায়াত করত, যার তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতিকে নগণ্য ও কার্যত স্থবির বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিপিং অ্যাসোসিয়েশন বিআইএমসিও-এর তথ্যমতে, অধিকাংশ শিপিং কোম্পানি বর্তমানে এই পথে চলাচলকে চরম অনিরাপদ মনে করছে। জাহাজ মালিকরা এই রুটে ফেরার আগে একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাতরত পক্ষগুলোর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছেন। বর্তমানে জাহাজগুলো ইরান ও ওমান উপকূল ঘেঁষে অত্যন্ত সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, যা বড় আকারের বাণিজ্যিক যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত নয়।

মেরিন ট্রাফিক ও কপ্লার-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যাতায়াতকারী সীমিত সংখ্যক জাহাজের মধ্যে ইরানের পতাকাবাহী ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাঙ্কার ‘নিকি’ অন্যতম। যুদ্ধের উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই রুট এড়িয়ে চলায় হরমুজ প্রণালি এখন জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

বিশ্বের মোট খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ফলে এই অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে একটি ভয়াবহ সংকটের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত কার্যকর কোনো সমাধান না এলে বিশ্ব অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্থবির: ২৪ ঘণ্টায় পার হলো মাত্র ৫টি যান

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির আবহে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সর্বশেষ শিপিং ডাটা অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর আগে এই পথ দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ যাতায়াত করত, যার তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতিকে নগণ্য ও কার্যত স্থবির বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিপিং অ্যাসোসিয়েশন বিআইএমসিও-এর তথ্যমতে, অধিকাংশ শিপিং কোম্পানি বর্তমানে এই পথে চলাচলকে চরম অনিরাপদ মনে করছে। জাহাজ মালিকরা এই রুটে ফেরার আগে একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাতরত পক্ষগুলোর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছেন। বর্তমানে জাহাজগুলো ইরান ও ওমান উপকূল ঘেঁষে অত্যন্ত সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, যা বড় আকারের বাণিজ্যিক যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত নয়।

মেরিন ট্রাফিক ও কপ্লার-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যাতায়াতকারী সীমিত সংখ্যক জাহাজের মধ্যে ইরানের পতাকাবাহী ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাঙ্কার ‘নিকি’ অন্যতম। যুদ্ধের উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই রুট এড়িয়ে চলায় হরমুজ প্রণালি এখন জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

বিশ্বের মোট খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ফলে এই অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে একটি ভয়াবহ সংকটের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত কার্যকর কোনো সমাধান না এলে বিশ্ব অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়বে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ