পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বাংলাদেশের দিকে চোখ না রাঙাতে এবং কোনো হুমকি-ধমকি না দিতে আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। প্রতিবেশীকে সম্মান করার পাশাপাশি সেখানে যেন ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন ও অশান্তি না হয় এবং মুসলিমদের নাজেহাল করা বন্ধ হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। শনিবার (১৬ মে) বিকালে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলের রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের শান্তি নিয়ে টান দিলে কারো শান্তিই থাকবে না। দেশের কোনো সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরি করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি ভারতের মানবিক বিপর্যয় বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কারো রক্তচক্ষুর দিকে না তাকিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারকে তাগিদ দেন তিনি।
নদী ও পানির ন্যায্য পাওনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা আজ শুকনো মৌসুমে মরুভূমি আর বর্ষায় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ১৫৪টি অভিন্ন নদী আজ মৃতপ্রায়। তাই খাল কাটা কর্মসূচির পাশাপাশি আগে নদীর যৌবন ফিরিয়ে আনার দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সমাবেশে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারের হেঁটে যাওয়া পথেই এখন বিএনপি হাঁটছে এবং এই সংসদের মেয়াদ আর মাত্র আড়াই মাস। গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করে জনগণকে অপমান করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি সৎপথে ফিরে আসার আহ্বান জানান, অন্যথায় আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়া প্রশাসকদের নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইশতেহারে অনির্বাচিত প্রতিনিধি না রাখার কথা বললেও ৪২টি জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে তারা নিজেদের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গেই গাদ্দারি করেছে।
জুলাই আন্দোলনের তরুণ-তরুণীদের সরকারি দলের পক্ষ থেকে 'শিশু পার্টি' বা 'গুপ্ত' বলে উপহাস করার তীব্র নিন্দা জানান জামায়াত আমির। পরিশেষে সংসদে কথা বলতে না দিলে জনগণের পার্লামেন্টে চলে আসার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, যাদের নেতারা হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াতে পারে, তাদের চোখ রাঙিয়ে ভয় দেখানো যাবে না।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের পরিচালনায় এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বাংলাদেশের দিকে চোখ না রাঙাতে এবং কোনো হুমকি-ধমকি না দিতে আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। প্রতিবেশীকে সম্মান করার পাশাপাশি সেখানে যেন ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন ও অশান্তি না হয় এবং মুসলিমদের নাজেহাল করা বন্ধ হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। শনিবার (১৬ মে) বিকালে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলের রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের শান্তি নিয়ে টান দিলে কারো শান্তিই থাকবে না। দেশের কোনো সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরি করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি ভারতের মানবিক বিপর্যয় বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কারো রক্তচক্ষুর দিকে না তাকিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারকে তাগিদ দেন তিনি।
নদী ও পানির ন্যায্য পাওনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা আজ শুকনো মৌসুমে মরুভূমি আর বর্ষায় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ১৫৪টি অভিন্ন নদী আজ মৃতপ্রায়। তাই খাল কাটা কর্মসূচির পাশাপাশি আগে নদীর যৌবন ফিরিয়ে আনার দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সমাবেশে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারের হেঁটে যাওয়া পথেই এখন বিএনপি হাঁটছে এবং এই সংসদের মেয়াদ আর মাত্র আড়াই মাস। গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করে জনগণকে অপমান করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি সৎপথে ফিরে আসার আহ্বান জানান, অন্যথায় আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়া প্রশাসকদের নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইশতেহারে অনির্বাচিত প্রতিনিধি না রাখার কথা বললেও ৪২টি জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে তারা নিজেদের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গেই গাদ্দারি করেছে।
জুলাই আন্দোলনের তরুণ-তরুণীদের সরকারি দলের পক্ষ থেকে 'শিশু পার্টি' বা 'গুপ্ত' বলে উপহাস করার তীব্র নিন্দা জানান জামায়াত আমির। পরিশেষে সংসদে কথা বলতে না দিলে জনগণের পার্লামেন্টে চলে আসার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, যাদের নেতারা হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াতে পারে, তাদের চোখ রাঙিয়ে ভয় দেখানো যাবে না।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের পরিচালনায় এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন