পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত বুধবার (২০ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখ্যমন্ত্রী এই নতুন নীতি ও এর আইনি দিকগুলো স্পষ্ট করেন:
প্রক্রিয়া: অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারীদের শনাক্ত করে প্রথমে রাজ্য পুলিশ আটক করবে। এরপর তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) কাছে ফেরত পাঠানো হবে।
প্রেক্ষাপট: শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ২০২৫ সালেই কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে নির্দেশিকা দিলেও তৎকালীন রাজ্য সরকার তা কার্যকর করেনি। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন রাজ্য সরকার এটি পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বসবাসরত, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে বহু বছর আগে আসা হিন্দু উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, তারা এই অভিযানের আওতায় পড়তে পারেন।
তবে এই উদ্বেগ নাকচ করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন:
সংখ্যালঘুদের ছাড়: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় থাকা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (যেমন— হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান) মানুষদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
নির্দিষ্ট সময়সীমা: বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে যেসকল ব্যক্তিরা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাদের আটক বা হয়রানি করা হবে না এবং তারা নির্ধারিত নিয়মে নাগরিকত্ব পাবেন। তবে এর বাইরে অন্য কেউ থাকলে তাদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই সিদ্ধান্ত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন বসবাসরত অনেক পরিবারের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও বড় ধরণের মানবিক সংকট তৈরি করবে।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে— জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ এবং সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত বুধবার (২০ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখ্যমন্ত্রী এই নতুন নীতি ও এর আইনি দিকগুলো স্পষ্ট করেন:
প্রক্রিয়া: অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারীদের শনাক্ত করে প্রথমে রাজ্য পুলিশ আটক করবে। এরপর তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) কাছে ফেরত পাঠানো হবে।
প্রেক্ষাপট: শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ২০২৫ সালেই কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে নির্দেশিকা দিলেও তৎকালীন রাজ্য সরকার তা কার্যকর করেনি। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন রাজ্য সরকার এটি পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বসবাসরত, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে বহু বছর আগে আসা হিন্দু উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, তারা এই অভিযানের আওতায় পড়তে পারেন।
তবে এই উদ্বেগ নাকচ করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন:
সংখ্যালঘুদের ছাড়: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় থাকা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (যেমন— হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান) মানুষদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
নির্দিষ্ট সময়সীমা: বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে যেসকল ব্যক্তিরা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাদের আটক বা হয়রানি করা হবে না এবং তারা নির্ধারিত নিয়মে নাগরিকত্ব পাবেন। তবে এর বাইরে অন্য কেউ থাকলে তাদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই সিদ্ধান্ত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন বসবাসরত অনেক পরিবারের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও বড় ধরণের মানবিক সংকট তৈরি করবে।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে— জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ এবং সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।

আপনার মতামত লিখুন