ঢাকা নিউজ

শরীরে ৫১ ক্ষত ও সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগ: দেড় বছরের শিশুকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় মা ও প্রেমিক গ্রেফতার



শরীরে ৫১ ক্ষত ও সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগ: দেড় বছরের শিশুকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় মা ও প্রেমিক গ্রেফতার
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের কেরালা রাজ্যে দেড় বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যার তথ্য উঠে এসেছে। প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, খাবার গলায় আটকে শ্বাসরোধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তে প্রকাশ পায়, দীর্ঘদিনের শারীরিক নির্যাতনের ফলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর নাম আরশিদ। কেরালার রাজধানী তিরুবনন্তপুরম থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের নেদুমাঙ্গাডের পানাভুর এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

গত ২৯ মে সন্ধ্যায় আরশিদকে প্রথমে পানাভুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে শ্রী অবিট্টম থিরুনাল (এসএটি) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শিশুটির সৎবাবা আশকার জানান, খাবার গলায় আটকে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল আরশিদ। তবে শিশুটির স্বজনরা এ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে পুলিশকে অবহিত করার পর ময়নাতদন্তে দেখা যায়, শিশুটির সারা শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তদন্তকারীরা তার শরীরে মোট ৫১টি ক্ষত শনাক্ত করেন, যার মধ্যে যৌনাঙ্গে গভীর আঘাত এবং দুই পায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগও ছিল। ঘটনার পর ৩০ মে রাতে পুলিশ আরশিদের ২১ বছর বয়সি মা আখিলা এবং তার সঙ্গে বসবাসকারী প্রেমিক আশকারকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়।

সোমবার (১ জুন) প্রমাণ সংগ্রহ ও ঘটনার পুনর্গঠনের জন্য আশকারকে বাড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে শিশুটিকে মারধরের জন্য ব্যবহৃত একটি লাঠি এবং সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি লাইটার উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পুনর্গঠনের পর আশকার পুলিশকে জানান, আখিলার সঙ্গে তার সম্পর্কের পথে বাধা হিসেবে দেখায় তিন মাস আগেই তিনি আরশিদকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং গত এক মাস ধরে নিয়মিতভাবে শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, ২৯ মে শিশুটি জোরে কান্নাকাটি করলে আশকার তার মাথায় আঘাত করেন এবং মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘর পরিষ্কার করে আলামত নষ্টের চেষ্টা করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তদন্তে আরও জানা যায়, মৃত্যুর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিশুটির কান্নার শব্দ বন্ধ করতে তার মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হতো। নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু একটি খালে ফেলে দেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন আশকার।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস আগে আরশিদের দুই হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রতিবেশীরা জানতে চাইলে আশকার দাবি করেছিলেন, সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে শিশুটির হাত ভেঙেছে। পরে আখিলা আহত শিশুর একটি ছবি নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে পোস্ট করেন। গত ১৬ মে, মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আরশিদকে নিয়ে তার মা একটি বাসস্ট্যান্ডে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কনটেন্ট নির্মাতার সঙ্গে দেখা করেন, যেখানে তোলা ছবিতে দেখা যায় শিশুটির দুই হাতই প্লাস্টারে মোড়ানো। ১ জুন প্রমাণ সংগ্রহের সময় বাড়ির আঙিনায় পরিত্যক্ত অবস্থায় শিশুটির ভাঙা হাতের প্লাস্টারও উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে মা আখিলা স্বীকার করেছেন, তিনি তার প্রেমিকের হাতে ছেলের ওপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতনের বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং একাধিকবার নিজের চোখে আশকারকে হাত ও লাঠি দিয়ে মারধর করতে দেখলেও কোনো সময়ই ছেলেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেননি। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও আলামত নষ্টের অভিযোগে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


শরীরে ৫১ ক্ষত ও সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগ: দেড় বছরের শিশুকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় মা ও প্রেমিক গ্রেফতার

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের কেরালা রাজ্যে দেড় বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যার তথ্য উঠে এসেছে। প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, খাবার গলায় আটকে শ্বাসরোধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তে প্রকাশ পায়, দীর্ঘদিনের শারীরিক নির্যাতনের ফলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর নাম আরশিদ। কেরালার রাজধানী তিরুবনন্তপুরম থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের নেদুমাঙ্গাডের পানাভুর এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

গত ২৯ মে সন্ধ্যায় আরশিদকে প্রথমে পানাভুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে শ্রী অবিট্টম থিরুনাল (এসএটি) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শিশুটির সৎবাবা আশকার জানান, খাবার গলায় আটকে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল আরশিদ। তবে শিশুটির স্বজনরা এ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে পুলিশকে অবহিত করার পর ময়নাতদন্তে দেখা যায়, শিশুটির সারা শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তদন্তকারীরা তার শরীরে মোট ৫১টি ক্ষত শনাক্ত করেন, যার মধ্যে যৌনাঙ্গে গভীর আঘাত এবং দুই পায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগও ছিল। ঘটনার পর ৩০ মে রাতে পুলিশ আরশিদের ২১ বছর বয়সি মা আখিলা এবং তার সঙ্গে বসবাসকারী প্রেমিক আশকারকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়।

সোমবার (১ জুন) প্রমাণ সংগ্রহ ও ঘটনার পুনর্গঠনের জন্য আশকারকে বাড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে শিশুটিকে মারধরের জন্য ব্যবহৃত একটি লাঠি এবং সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি লাইটার উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পুনর্গঠনের পর আশকার পুলিশকে জানান, আখিলার সঙ্গে তার সম্পর্কের পথে বাধা হিসেবে দেখায় তিন মাস আগেই তিনি আরশিদকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং গত এক মাস ধরে নিয়মিতভাবে শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, ২৯ মে শিশুটি জোরে কান্নাকাটি করলে আশকার তার মাথায় আঘাত করেন এবং মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘর পরিষ্কার করে আলামত নষ্টের চেষ্টা করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তদন্তে আরও জানা যায়, মৃত্যুর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিশুটির কান্নার শব্দ বন্ধ করতে তার মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হতো। নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু একটি খালে ফেলে দেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন আশকার।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস আগে আরশিদের দুই হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রতিবেশীরা জানতে চাইলে আশকার দাবি করেছিলেন, সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে শিশুটির হাত ভেঙেছে। পরে আখিলা আহত শিশুর একটি ছবি নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে পোস্ট করেন। গত ১৬ মে, মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আরশিদকে নিয়ে তার মা একটি বাসস্ট্যান্ডে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কনটেন্ট নির্মাতার সঙ্গে দেখা করেন, যেখানে তোলা ছবিতে দেখা যায় শিশুটির দুই হাতই প্লাস্টারে মোড়ানো। ১ জুন প্রমাণ সংগ্রহের সময় বাড়ির আঙিনায় পরিত্যক্ত অবস্থায় শিশুটির ভাঙা হাতের প্লাস্টারও উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে মা আখিলা স্বীকার করেছেন, তিনি তার প্রেমিকের হাতে ছেলের ওপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতনের বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং একাধিকবার নিজের চোখে আশকারকে হাত ও লাঠি দিয়ে মারধর করতে দেখলেও কোনো সময়ই ছেলেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেননি। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও আলামত নষ্টের অভিযোগে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ