ঢাকা নিউজ

হরমুজে মার্কিন অবরোধ ও রাশিয়ার পাল্টা চাল: ভেস্তে যেতে পারে ট্রাম্পের বড় পরিকল্পনা



হরমুজে মার্কিন অবরোধ ও রাশিয়ার পাল্টা চাল: ভেস্তে যেতে পারে ট্রাম্পের বড় পরিকল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধের বিপরীতে চীনকে জ্বালানি সহায়তার রাশিয়ার প্রকাশ্য অঙ্গীকার ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের এই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কৌশল বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি ও অবরোধের চিত্র: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, গত সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই অবরোধের ফলে ইরানের কোনো বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। এই অভিযান সফল করতে একটি সুপার ক্যারিয়ার, ১১টি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ মোট ১৫টি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়াও কয়েক ডজন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ১০ হাজারের বেশি মেরিন সেনা এই অবরোধ পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে। সেন্টকমের দাবি, ইতোমধ্যে অন্তত ছয়টি বড় মালবাহী জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে।

রাশিয়ার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ও চীনের অবস্থান: ইরানি তেলের বৃহত্তম ক্রেতা চীনকে চাপে ফেলতে ওয়াশিংটন এই অবরোধ দিলেও রাশিয়ার এক ঘোষণা পাশার দান উল্টে দিতে পারে। বেইজিং সফরে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, মস্কো চীনের যেকোনো জ্বালানি ঘাটতি পূরণে সক্ষম। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ চীনা বাজারে তাদের প্রভাব আরও শক্তিশালী করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অশনি সংকেত: বিশ্বের মোট এলএনজির ২০ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের ২৫ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও চরম মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়বে বিশ্ব, যার প্রভাব বিশেষ করে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর প্রকট হবে।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে? বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি এবং চীন-রাশিয়া জোটের নতুন অবস্থান। এই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোনো বড় যুদ্ধের দিকে যাবে নাকি নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতায় শেষ হবে, তা এখন বিশ্ববাসীর দেখার বিষয়। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করবে বিশ্ব রাজনীতির পরবর্তী মোড়।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজে মার্কিন অবরোধ ও রাশিয়ার পাল্টা চাল: ভেস্তে যেতে পারে ট্রাম্পের বড় পরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধের বিপরীতে চীনকে জ্বালানি সহায়তার রাশিয়ার প্রকাশ্য অঙ্গীকার ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের এই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কৌশল বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি ও অবরোধের চিত্র: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, গত সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই অবরোধের ফলে ইরানের কোনো বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। এই অভিযান সফল করতে একটি সুপার ক্যারিয়ার, ১১টি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ মোট ১৫টি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়াও কয়েক ডজন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ১০ হাজারের বেশি মেরিন সেনা এই অবরোধ পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে। সেন্টকমের দাবি, ইতোমধ্যে অন্তত ছয়টি বড় মালবাহী জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে।

রাশিয়ার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ও চীনের অবস্থান: ইরানি তেলের বৃহত্তম ক্রেতা চীনকে চাপে ফেলতে ওয়াশিংটন এই অবরোধ দিলেও রাশিয়ার এক ঘোষণা পাশার দান উল্টে দিতে পারে। বেইজিং সফরে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, মস্কো চীনের যেকোনো জ্বালানি ঘাটতি পূরণে সক্ষম। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ চীনা বাজারে তাদের প্রভাব আরও শক্তিশালী করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অশনি সংকেত: বিশ্বের মোট এলএনজির ২০ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের ২৫ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও চরম মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়বে বিশ্ব, যার প্রভাব বিশেষ করে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর প্রকট হবে।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে? বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি এবং চীন-রাশিয়া জোটের নতুন অবস্থান। এই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোনো বড় যুদ্ধের দিকে যাবে নাকি নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতায় শেষ হবে, তা এখন বিশ্ববাসীর দেখার বিষয়। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করবে বিশ্ব রাজনীতির পরবর্তী মোড়।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ