ঢাকা নিউজ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও চুক্তির মূল শর্তসমূহ



যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও চুক্তির মূল শর্তসমূহ
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্বঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। গত ৮ এপ্রিল দুই দেশ দুই সপ্তাহের একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যার নির্ধারিত সময়সীমা আজ বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত অনুযায়ী ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দিতে রাজি হয়। পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল ও পণ্য রপ্তানির এই নৌপথটি দিয়ে দুই সপ্তাহের জন্য জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল ইরান।

শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ সময় আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই ওয়াশিংটনে ফিরে যান। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে এবং অর্থনৈতিক ও নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বৃদ্ধি করেছে।

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য প্রান্তেও উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে। গত ১৬ এপ্রিল ইসরাইল ও লেবানন সীমান্তের জন্য ১০ দিনের একটি পৃথক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ১৯৯৩ সালের পর দেশ দুটির মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেবাননের পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়ার অজুহাতে পরদিনই পুনরায় নৌপথটি বন্ধ করে দেয় তেহরান।

বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির শর্তানুযায়ী, যেকোনো ধরনের হামলার বিরুদ্ধে ইসরাইল তাদের আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হিজবুল্লাহসহ অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী যাতে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে লেবানন সরকারকে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও চুক্তির মূল শর্তসমূহ

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পূর্বঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। গত ৮ এপ্রিল দুই দেশ দুই সপ্তাহের একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যার নির্ধারিত সময়সীমা আজ বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত অনুযায়ী ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দিতে রাজি হয়। পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল ও পণ্য রপ্তানির এই নৌপথটি দিয়ে দুই সপ্তাহের জন্য জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল ইরান।

শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ সময় আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই ওয়াশিংটনে ফিরে যান। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে এবং অর্থনৈতিক ও নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বৃদ্ধি করেছে।

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য প্রান্তেও উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে। গত ১৬ এপ্রিল ইসরাইল ও লেবানন সীমান্তের জন্য ১০ দিনের একটি পৃথক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ১৯৯৩ সালের পর দেশ দুটির মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেবাননের পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়ার অজুহাতে পরদিনই পুনরায় নৌপথটি বন্ধ করে দেয় তেহরান।

বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির শর্তানুযায়ী, যেকোনো ধরনের হামলার বিরুদ্ধে ইসরাইল তাদের আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হিজবুল্লাহসহ অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী যাতে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে লেবানন সরকারকে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ