বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই অর্থাৎ ৯১ শতাংশ জেলায় এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করলেও সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ১৬৬ জন শিশু।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি, যার একটি বড় অংশ ঢাকার বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকার। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৯১ শতাংশ রোগী ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু, যা এই বয়সীদের মধ্যে বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতার ঘাটতি নির্দেশ করে। মূলত ২০২৪-২৫ সালে টিকার সংকটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, বর্তমান প্রাদুর্ভাব তারই ফল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিন পর উচ্চ জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্ধত্বের মতো গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা (MR) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে এবং আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে দীর্ঘ সীমান্ত এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে এই সংক্রমণ দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। সংস্থাটি সব এলাকায় অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণ রুখতে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম সফল করা এবং প্রয়োজনে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করা প্রয়োজন।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই অর্থাৎ ৯১ শতাংশ জেলায় এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করলেও সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিলের মধ্যে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ১৬৬ জন শিশু।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি, যার একটি বড় অংশ ঢাকার বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকার। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৯১ শতাংশ রোগী ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু, যা এই বয়সীদের মধ্যে বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতার ঘাটতি নির্দেশ করে। মূলত ২০২৪-২৫ সালে টিকার সংকটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, বর্তমান প্রাদুর্ভাব তারই ফল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিন পর উচ্চ জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্ধত্বের মতো গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা (MR) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে এবং আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে দীর্ঘ সীমান্ত এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে এই সংক্রমণ দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। সংস্থাটি সব এলাকায় অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণ রুখতে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম সফল করা এবং প্রয়োজনে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন