ঢাকা নিউজ

কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ পুলিশ নিহত



কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ পুলিশ নিহত
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটে সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-এর সমর্থকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য এবং দুজন বিক্ষোভকারীসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য এবং বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক। পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ডনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

আজাদ কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক লিয়াকত আলী মালিকের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত রোববার (৭ জুন) রাতে বিক্ষোভকারীরা কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল (সিএমএইচ) রাওয়ালাকোটে আকস্মিক হামলা চালালে এই চার পুলিশ সদস্য নিহত হন। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র ও শটগানের গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসন এই ঘটনাটিকে ‘সরাসরি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জননিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার কঠোর ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সংঘর্ষে বিক্ষোভকারীদের পক্ষেরও অন্তত দুজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে পুরো অঞ্চলে মোবাইল ইন্টারনেট ও ডাটা সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সঠিক তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উত্তেজনার সূত্রপাত ও মরদেহ দাফনে অস্বীকৃতি এর আগে গত শুক্রবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এক সংঘর্ষে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই পুরো রাওয়ালাকোটে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার তাঁর জানাজার কথা থাকলেও ময়নাতদন্তের জটিলতায় তা রোববার পর্যন্ত স্থগিত করা হয় এবং মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। এই সময় হাসপাতালের বাইরে শত শত মানুষ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হাসপাতালের সামনে থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পালটা ধাওয়া শুরু হয়। দাঙ্গা পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ভারী পাথর নিক্ষেপ করে। এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের সামনে অবস্থান ধর্মঘটের কারণে রোগী ও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছিল এবং বারবার অনুরোধ করার পরও বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরেননি।

এদিকে নিহত ব্যবসায়ীর পরিবার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে, পাকিস্তান সরকার জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা মরদেহ দাফন করবে না। পরিবারের এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের ছেলের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে সন্ত্রাসী হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। জেএএসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করা প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমরা মরদেহ দাফন করব না।"

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা নিউজ

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ পুলিশ নিহত

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটে সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-এর সমর্থকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য এবং দুজন বিক্ষোভকারীসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য এবং বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক। পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ডনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

আজাদ কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক লিয়াকত আলী মালিকের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত রোববার (৭ জুন) রাতে বিক্ষোভকারীরা কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল (সিএমএইচ) রাওয়ালাকোটে আকস্মিক হামলা চালালে এই চার পুলিশ সদস্য নিহত হন। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র ও শটগানের গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসন এই ঘটনাটিকে ‘সরাসরি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জননিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার কঠোর ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সংঘর্ষে বিক্ষোভকারীদের পক্ষেরও অন্তত দুজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে পুরো অঞ্চলে মোবাইল ইন্টারনেট ও ডাটা সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সঠিক তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উত্তেজনার সূত্রপাত ও মরদেহ দাফনে অস্বীকৃতি এর আগে গত শুক্রবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এক সংঘর্ষে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই পুরো রাওয়ালাকোটে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার তাঁর জানাজার কথা থাকলেও ময়নাতদন্তের জটিলতায় তা রোববার পর্যন্ত স্থগিত করা হয় এবং মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। এই সময় হাসপাতালের বাইরে শত শত মানুষ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হাসপাতালের সামনে থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পালটা ধাওয়া শুরু হয়। দাঙ্গা পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ভারী পাথর নিক্ষেপ করে। এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের সামনে অবস্থান ধর্মঘটের কারণে রোগী ও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছিল এবং বারবার অনুরোধ করার পরও বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরেননি।

এদিকে নিহত ব্যবসায়ীর পরিবার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে, পাকিস্তান সরকার জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা মরদেহ দাফন করবে না। পরিবারের এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের ছেলের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে সন্ত্রাসী হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। জেএএসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করা প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমরা মরদেহ দাফন করব না।"


ঢাকা নিউজ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ফারুক মৃধা
সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক: আনোয়ার শাহ

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত ঢাকা নিউজ