ইসরাইলের বিভিন্ন কারাগার ও বন্দি শিবিরে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত যৌন নির্যাতনের এক বীভৎস চিত্র সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নেগেভ মরুভূমির ‘সদে তেইমান’ কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত কুকুর লেলিয়ে দিয়ে বন্দিদের ধর্ষণের মতো জঘন্য ও অমানবিক নীতি কার্যকর করার তথ্য পাওয়া গেছে। ইসরাইলের কঠোর সামরিক সেন্সরশিপের দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে আসা এসব তথ্যকে বিশ্লেষকরা ফিলিস্তিনিদের মনস্তাত্ত্বিক ও ব্যক্তিগত সত্ত্বা ধ্বংস করার একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ইসরাইলের সাবেক সেনা সদস্য শাহেল বেন-এফ্রাইম সম্প্রতি সদে তেইমানের প্রহরীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছেন যে, সেখানে যৌন নির্যাতনে কুকুরের ব্যবহার এখন একটি ‘ওপেন সিক্রেট’। বি’সেলেম এবং ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটরের মতো সংস্থাগুলোর তদন্তে দেখা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের আড়ালে এই কেন্দ্রগুলোকে একেকটি ‘নির্যাতন শিবিরে’ রূপান্তর করা হয়েছে। বেঁচে ফেরা বন্দিরা নগ্ন করে কুকুর দিয়ে পাশবিক নির্যাতন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করার মতো শিউরে ওঠা বর্ণনা দিয়েছেন। এমনকি নির্যাতনের শিকার হয়ে রক্তক্ষরণে বন্দির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
এই ভয়াবহ পাশবিকতাকে ইসরাইলের বর্তমান আইনি ও রাজনৈতিক কাঠামো সুরক্ষা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালে এক দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ সৈন্যকে কট্টরপন্থি মন্ত্রীরা ‘নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়েছে। নেসেটের লিকুদ পার্টির সদস্যদের কেউ কেউ বন্দিদের ওপর এ ধরনের অমানবিক নির্যাতনকে প্রকাশ্যে বৈধতা দিচ্ছেন। জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ একে ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা ধ্বংসের একটি ‘কাঠামোগত অংশ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
আন্তর্জাতিক স্তরে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট মাঝেমধ্যে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করলেও ইসরাইলকে সামরিক ও কূটনৈতিক সুরক্ষা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, পশ্চিমা বিশ্বের এই নীরবতা এবং জবাবদিহিতার অভাবই মূলত এমন ঘৃণ্য অপরাধ চালিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করে দিচ্ছে।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ইসরাইলের বিভিন্ন কারাগার ও বন্দি শিবিরে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত যৌন নির্যাতনের এক বীভৎস চিত্র সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নেগেভ মরুভূমির ‘সদে তেইমান’ কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত কুকুর লেলিয়ে দিয়ে বন্দিদের ধর্ষণের মতো জঘন্য ও অমানবিক নীতি কার্যকর করার তথ্য পাওয়া গেছে। ইসরাইলের কঠোর সামরিক সেন্সরশিপের দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে আসা এসব তথ্যকে বিশ্লেষকরা ফিলিস্তিনিদের মনস্তাত্ত্বিক ও ব্যক্তিগত সত্ত্বা ধ্বংস করার একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ইসরাইলের সাবেক সেনা সদস্য শাহেল বেন-এফ্রাইম সম্প্রতি সদে তেইমানের প্রহরীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছেন যে, সেখানে যৌন নির্যাতনে কুকুরের ব্যবহার এখন একটি ‘ওপেন সিক্রেট’। বি’সেলেম এবং ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটরের মতো সংস্থাগুলোর তদন্তে দেখা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের আড়ালে এই কেন্দ্রগুলোকে একেকটি ‘নির্যাতন শিবিরে’ রূপান্তর করা হয়েছে। বেঁচে ফেরা বন্দিরা নগ্ন করে কুকুর দিয়ে পাশবিক নির্যাতন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করার মতো শিউরে ওঠা বর্ণনা দিয়েছেন। এমনকি নির্যাতনের শিকার হয়ে রক্তক্ষরণে বন্দির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
এই ভয়াবহ পাশবিকতাকে ইসরাইলের বর্তমান আইনি ও রাজনৈতিক কাঠামো সুরক্ষা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালে এক দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ সৈন্যকে কট্টরপন্থি মন্ত্রীরা ‘নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়েছে। নেসেটের লিকুদ পার্টির সদস্যদের কেউ কেউ বন্দিদের ওপর এ ধরনের অমানবিক নির্যাতনকে প্রকাশ্যে বৈধতা দিচ্ছেন। জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ একে ফিলিস্তিনিদের মর্যাদা ধ্বংসের একটি ‘কাঠামোগত অংশ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
আন্তর্জাতিক স্তরে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট মাঝেমধ্যে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করলেও ইসরাইলকে সামরিক ও কূটনৈতিক সুরক্ষা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, পশ্চিমা বিশ্বের এই নীরবতা এবং জবাবদিহিতার অভাবই মূলত এমন ঘৃণ্য অপরাধ চালিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করে দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন