সারাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) টিকার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে এই সমস্যা প্রকট হওয়ায় দিনের পর দিন ঘুরেও শিশুরা প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছে না। একই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও। সরবরাহ ঘাটতির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরাও টিকা আসার সুনির্দিষ্ট সময় জানাতে পারছেন না, যা জনস্বাস্থ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলোতে সরেজমিনে টিকার এই সংকটের করুণ চিত্র পাওয়া গেছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এলেও টিকা না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকা ফুরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে; ফলে সাড়ে তিন মাস বয়সের টিকা পাঁচ মাস পার হলেও পাচ্ছে না অনেক শিশু। অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপের তুলনায় সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থাকায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষ করে পেন্টাভ্যালেন্ট এবং হাম-রুবেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ টিকার স্বল্পতা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পর জানানো হচ্ছে টিকা শেষ। হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ কম থাকায় চাহিদার তুলনায় তারা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। তবে কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে সাময়িক সমস্যা বলে দাবি করেছে এবং নতুন চালান এলে দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে সংক্রামক রোগের মহামারি দেখা দিতে পারে। সংক্রামক ব্যাধি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন তারা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট দীর্ঘমেয়াদী জনস্বাস্থ্য সংকটের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
সারাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) টিকার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে এই সমস্যা প্রকট হওয়ায় দিনের পর দিন ঘুরেও শিশুরা প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছে না। একই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও। সরবরাহ ঘাটতির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরাও টিকা আসার সুনির্দিষ্ট সময় জানাতে পারছেন না, যা জনস্বাস্থ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলোতে সরেজমিনে টিকার এই সংকটের করুণ চিত্র পাওয়া গেছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এলেও টিকা না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকা ফুরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে; ফলে সাড়ে তিন মাস বয়সের টিকা পাঁচ মাস পার হলেও পাচ্ছে না অনেক শিশু। অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপের তুলনায় সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থাকায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষ করে পেন্টাভ্যালেন্ট এবং হাম-রুবেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ টিকার স্বল্পতা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পর জানানো হচ্ছে টিকা শেষ। হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ কম থাকায় চাহিদার তুলনায় তারা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। তবে কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে সাময়িক সমস্যা বলে দাবি করেছে এবং নতুন চালান এলে দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে সংক্রামক রোগের মহামারি দেখা দিতে পারে। সংক্রামক ব্যাধি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন তারা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট দীর্ঘমেয়াদী জনস্বাস্থ্য সংকটের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন