রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটেমের সহায়তায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও রোসাটেম এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মূল ব্যয় তুলনামূলকভাবে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়েছে, যা সাধারণত ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়ার কথা নয়। গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারকে এই অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দিতেই প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই অভিযোগের তদন্ত করছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রূপপুর কেন্দ্রের নির্মাণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রোসাটম সহজে দেখাচ্ছে না, যা অনিয়মের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে। পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হলেও তা এখনো পাওয়া যায়নি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই প্রকল্প নিয়ে অধিকতর অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে হাসিনা, জয় ও টিউলিপের বিরুদ্ধে ওঠা এই দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ১৬ মাস পার হলেও অনুসন্ধান দল এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমিশন না থাকায় বর্তমানে কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে এবং বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
বর্তমানে এই বিশাল প্রকল্প ব্যয়ের বোঝা দেশের অর্থনীতির ওপর একটি বড় চাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে রূপপুর কেন্দ্রের একটি ইউনিটে জ্বালানি লোড করা হয়েছে এবং আগামী আগস্ট থেকে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রকল্পের অস্বচ্ছতা ও অর্থ লোপাটের অভিযোগগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটেমের সহায়তায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও রোসাটেম এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মূল ব্যয় তুলনামূলকভাবে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়েছে, যা সাধারণত ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়ার কথা নয়। গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারকে এই অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দিতেই প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই অভিযোগের তদন্ত করছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রূপপুর কেন্দ্রের নির্মাণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রোসাটম সহজে দেখাচ্ছে না, যা অনিয়মের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে। পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হলেও তা এখনো পাওয়া যায়নি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই প্রকল্প নিয়ে অধিকতর অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে হাসিনা, জয় ও টিউলিপের বিরুদ্ধে ওঠা এই দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ১৬ মাস পার হলেও অনুসন্ধান দল এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমিশন না থাকায় বর্তমানে কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে এবং বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
বর্তমানে এই বিশাল প্রকল্প ব্যয়ের বোঝা দেশের অর্থনীতির ওপর একটি বড় চাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে রূপপুর কেন্দ্রের একটি ইউনিটে জ্বালানি লোড করা হয়েছে এবং আগামী আগস্ট থেকে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রকল্পের অস্বচ্ছতা ও অর্থ লোপাটের অভিযোগগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

আপনার মতামত লিখুন